সত্য সমাচার ডেস্ক
১২ অক্টোবর ২০২৬
রোগী নিজে বা চিকিৎসক যখন রোগীর কাঁধের বিভিন্ন নড়াচড়া করাতে পারেন না এবং কাঁধে সবসময় ব্যথা থাকে, তখন একে ফ্রোজেন শোল্ডার, স্টিফ শোল্ডার বা এডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস বলা হয়। এই ব্যথা দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে।
এডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস একটি সেলফ লিমিটিং বা আপনাআপনি ভালো হওয়া রোগ; তবে এটি নিরাময় হতে পাঁচ থেকে নয় মাস, এমনকি আঠারো মাস পর্যন্ত সময় লাগে। এই সময়ে যথোপযুক্ত চিকিৎসা ও ব্যায়াম না হলে জোড়া চিরস্থায়ীভাবে স্টিফ বা জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ রোগে জয়েন্টের পর্দা বা ক্যাপসুলে প্রদাহ, সংকোচন ও স্ক্যার টিস্যু হয়। জোড়ার হাড়গুলোর মধ্যে এবং ক্যাপসুল ও এর বাইরের টিস্যুর মধ্যে জমানো বন্ধন তৈরি হয়। এ জন্য কাঁধ স্টিফ বা শক্ত হয়। আবার জোড়ার ফ্লুইড শুকিয়ে যাওয়ার জন্যও জয়েন্ট স্টিফ হয় এবং মুভমেন্ট সীমিত হয়। ফ্রোজেন শোল্ডার রোগী মূলত তিনটি অবস্থার মধ্য দিয়ে রোগকাল অতিক্রম করে। প্রথম বা ব্যথা অবস্থায় কাঁধে তীব্র ব্যথা থাকে এবং নড়াচড়া সীমিত হয়, যা সাধারণত ছয় থেকে বারো সপ্তাহ স্থায়ী হয়। মধ্য বা স্টিফ অবস্থায় কাঁধ শক্ত হয়ে যায় এবং ব্যথার তীব্রতা কিছুটা কমে, যা চার থেকে ছয় মাস থাকে। শেষ বা রিকভারি অবস্থায় স্টিফনেস ও ব্যথা ধীরে ধীরে কমে আসে এবং এক বছরের অধিক সময় ধরে এই অবস্থা চলতে থাকে। এই রোগে ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সের মানুষ বেশি ভোগে এবং পুরুষের তুলনায় নারীরা দ্বিগুণ আক্রান্ত হয়। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড রোগ, হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, স্ট্রোক, পারকিনসোনিজম ও আর্থ্রাইটিস রোগীদের জমানো কাঁধ বেশি হয়। মাথায় বা কাঁধে অপারেশন হলে কিংবা আঘাত পেয়ে দীর্ঘদিন মুভমেন্ট না করলেও এ সমস্যা হতে পারে। বার্সাইটিস, টেনডোনাইটিস এবং পেশির সমস্যাও জমানো কাঁধের ঝুঁকি বাড়ায়।
এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে সবসময় কাঁধে ব্যথা থাকা, যা রাতে ও শীতকালে বাড়ে; কাঁধ বা বাহুর নড়াচড়া সব দিকে সীমিত হওয়া; হাত দিয়ে কিছু তোলা বা উপরে উঠানো না যাওয়া; চুল আঁচড়ানো, জামা পরা বা বোতাম লাগানো কষ্টকর হওয়া; স্টিফ কাঁধে কাত হয়ে ঘুমাতে না পারা এবং প্যান্টের পেছনের পকেটে হাত দিতে না পারা।
ফ্রোজেন শোল্ডারের প্রধান চিকিৎসা হলো নিয়মিত ব্যায়াম। তবে রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কারণ নির্ণয়পূর্বক যথোপযুক্ত চিকিৎসা দিতে হয়। চিকিৎসায় সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগে। এর চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে রয়েছে ক্যাপসুল ও সফট টিস্যুর স্ট্রেচিং ব্যায়াম, পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম, ব্যথার ওষুধ সেবন এবং ফিজিক্যাল থেরাপি যেমন গরম বা ঠাণ্ডা সেঁক, ইন্ট্রাআর্টিকুলার স্টেরয়েড ইনজেকশন ও স্যালাইন থেরাপি। উপরোক্ত ব্যবস্থায় জমানো কাঁধ ভালো না হলে সর্বাধুনিক আর্থ্রোস্কোপিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হয়। এই পদ্ধতিতে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে জোড়ায় আর্থ্রোস্কোপ প্রবেশ করিয়ে ক্যাপসুল রিলিজ করা হয়, যার মাধ্যমে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। তাই দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

