ঢাকা৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগমুক্তির পর ব্যথা কমাতে ফিজিওথেরাপি

admin
অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সত্য সমাচার ডেস্ক:

৫ অক্টোবর ২০২৬

চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুজ্বর মারাত্মক একটি রোগ। এ রোগ থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার পরও অসংখ্য মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগে থাকেন। জ্বর ও অন্যান্য তীব্র উপসর্গগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেটে গেলেও হাত-পা, হাঁটু, কবজি, গোড়ালি এবং কাঁধের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা, আড়ষ্টতা, পেশির দুর্বলতা এবং চলাফেরায় অস্বস্তি দীর্ঘদিন ধরে শরীরে স্থায়ী হতে পারে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে শুধু ওষুধ বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণের ওপর নির্ভর না করে একটি সুপরিকল্পিত এবং বিজ্ঞানসম্মত ফিজিওথেরাপি রুটিন রোগীর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে পারে। রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার এই যাত্রাকে নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলতে সপ্তাহের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সুনির্দিষ্ট ব্যায়াম ও জীবনযাত্রার সঠিক পরিচর্যা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে চিকিৎসকের পরামর্শ সাপেক্ষে মূল লক্ষ্য থাকে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং অস্থিসন্ধির স্বাভাবিক সচলতা রক্ষা করা, যার জন্য দিনে দুই থেকে তিনবার হালকা গরম সেঁক এবং আঙুল মুঠো করা-খোলা, কবজি ও গোড়ালি ঘোরানো এবং হাঁটু হালকা ভাঁজ ও সোজা করার মতো সাধারণ রেঞ্জ অব মোশন ব্যায়াম প্রতিটি ৮ থেকে ১০ বার করা যেতে পারে। এরপর তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে এসে পূর্বের এই ব্যায়ামগুলো নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হালকা স্ট্রেচিং শুরু করা যায়, যেখানে হাত-পায়ের পেশি ধীরে টেনে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড ধরে রাখা এবং ঊরুর পেছনের পেশি ও কাঁধের নিরাপদ স্ট্রেচিং রোগীর শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ৩ থেকে ৫ বার করা ভালো। পঞ্চম ও ষষ্ঠ সপ্তাহে যখন ব্যথা ও আড়ষ্টতা অনেকটাই কমে আসে, তখন হালকা রেজিস্ট্যান্স বা থেরাব্যান্ডের সাহায্যে কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম শুরু করা উচিত এবং একই সঙ্গে সহনীয় মাত্রায় প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটার চমৎকার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এরপর সপ্তম ও অষ্টম পর্যায়ে হাঁটার গতি ও সময় বাড়ানোর পাশাপাশি হালকা ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম, যোগব্যায়াম এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে সিঁড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে পুনরায় স্বাভাবিক কর্মক্ষমতায় ফিরে আসা সম্পূর্ণ সম্ভবপর হয়। তবে যেকোনো ব্যায়াম করতে গিয়ে যদি ব্যথা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় কিংবা নতুন কোনো জটিল উপসর্গ দেখা দেয়, তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা, পর্যাপ্ত পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়। মনে রাখতে হবে, চিকুনগুনিয়া বা ডেঙ্গুর মতো রোগের পর উদ্ভূত দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা কিংবা কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। একজন রোগীর সার্বিক শারীরিক অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করে উপযুক্ত চিকিৎসক ও অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের যৌথ পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ওষুধ, ব্যায়াম ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করলে খুব সহজেই নিরাপদ ও কার্যকরভাবে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর জীবনে ফিরে আসা সম্ভব হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।