তামিল অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তামিলনাড়ুর বিরোধীদলীয় নেতা ও ডিএমকের নেতা উদয়নিধি স্টালিনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে চেন্নাইয়ের নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার সময় উদয়নিধি হাসিমুখে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই গ্রেপ্তারকে আমি একটি প্রহসন হিসেবে দেখছি। বিষয়টি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মোকাবিলা করব।’
সোমবার তাঞ্জাভুরে কাবেরী নদীর পানি বণ্টন ইস্যুতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন উদয়নিধি স্টালিন। এ সময় তিনি মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়কে (অভিনেতা থালাপতি বিজয়) আক্রমণ করে অভিযোগ করেন, কাবেরীর এক ফোঁটা পানিও তামিলনাড়ু পায়নি, অথচ মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে উদাসীন।
বক্তৃতার এক পর্যায়ে জনতার মধ্য থেকে কেউ ‘তৃষা, তৃষা’ বলে স্লোগান দিলে উদয়নিধি থেমে যান এবং হাসিমুখে একটি দ্ব্যর্থবোধক ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ওই মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিনেতা বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) অভিযোগ করে, উদয়নিধি প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে একজন নারীকে উদ্দেশ করে অশালীন ও দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য করেছেন, যা নারীদের প্রতি অবমাননাকর আচরণকে উৎসাহিত করে।
দলটি ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করে এবং পুলিশের কাছেও মামলা করে।
অভিযোগপত্রে টিভিকে জানায়, ‘উদয়নিধি স্টালিন জনতার স্লোগানের পর একজন পরিচিত নারী ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে অশালীন ও দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য করেছেন। এমন বক্তব্য জনপরিসরে নারীদের প্রতি মৌখিক হয়রানি ও বস্তু হিসেবে উপস্থাপনের সংস্কৃতিকে স্বাভাবিক করে তোলে।’
উদয়নিধির দল ডিএমকে এ গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে।
দলের নেতা টি.কে.এস. এলাঙ্গোভান বলেন, ‘তিনি কারও বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। উদয়নিধি শুধু বিজয়ের রাজনৈতিক ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছেন। বক্তব্যে অপমানজনক কিছু ছিল না। তিনি তৃষার নামও নেননি।’
টিভিকে নেতা আমেরিকাই নারায়ণন ডিএমকের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বা টিভিকের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য নয়, একজন নারীকে অপমান করার কারণেই উদয়নিধিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘উদয়নিধি নাম বদলে ‘ভালগার-নিধি’ রাখা উচিত।’
এর আগে তামিলনাড়ু বিজেপিও উদয়নিধির গ্রেপ্তার দাবি করেছিল। দলের প্রধান মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপাথি বলেন, উদয়নিধির বক্তব্য ছিল ‘অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও লজ্জাজনক’। এমন বক্তব্যের জন্য তাকে গ্রেপ্তার করলে তামিলনাড়ুরই সম্মান বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এটি প্রথমবার নয় যে অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করা হলো। অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়ানোর পর বিভিন্ন সময়ে রাজনীতি ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের ব্যক্তিরা এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
চলতি বছরের শুরুতে তামিলনাড়ু বিজেপি নেতা নাইনার নাগেন্দ্রনও বিজয়কে উদ্দেশ করে তৃষাকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। পরে তৃষার আইনজীবীরা ওই মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিক্রিয়া জানান।

