যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময় ফুরিয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত পরবর্তী শান্তি আলোচনার কোনও নিশ্চয়তা মেলেনি। হয়তো এ কারণেই এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের উদ্দেশে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন,‘ইরানকে অবশ্যই আলোচনায় বসতে হবে, অন্যথায় তারা গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হবে।’ রক্ষণশীল রেডিও অনুষ্ঠান দ্য জন ফ্রেডেরিকস শোতে মুঠোফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
পাল্টা জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কার্ড দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং হুমকির ছায়ায় কোনও আলোচনা মেনে নেবে না।
উপসাগরীয় অঞ্চলে গত রোববার ইরানের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দ করার পর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ে একে অপরকে দোষারোপ করছে দু’পক্ষই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা (ইরান) আলোচনায় বসবে, আর যদি না বসে, তাহলে তারা এমন সমস্যার মুখোমুখি হবে যা আগে কখনো দেখেনি।’
তিনি বলেন, ‘আশা করি তারা একটি ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছাবে এবং নিজেদের দেশ পুনর্গঠন করবে। তবে সেটা করতে গেলে তাদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না—এমনকি এর কোনো সুযোগও থাকবে না। আমরা তা হতে দিতে পারি না। এটি বিশ্ব ধ্বংসের কারণ হতে পারে, এবং আমরা সেটা হতে দেব না।’
প্রসঙ্গত, যুদ্ধবিরতিটি মূলত দুই সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত ছিল। এটি শুরু হয়েছিল গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায়।
এদিকে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার জন্য মঙ্গলবার পাকিস্তান সফর করবেন।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

