ঢাকা১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় ঐতিহ্যবাহী সেনিহাড়ী পুকুরে মাছ ধরার উৎসব

admin
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ ৫:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ আব্দুর রউফ
একটি পুকুরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মাছ ধরা উৎসব। ঐতিহ্যকে ধরে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও মাছ ধরার উৎসবে মেতেছেন শতাধিক জেলে। উৎসব করে মাছ ধরার এমন দৃশ্যের আনন্দ উপভোগ করতে পুকুরের চারপাশে ভিড় করেছেন হাজারো দর্শনার্থী ও ক্রেতা। আনুমানিক ৪০০ বছরের অধিক সময় ধরে রুহিয়া সেনিহাড়ি পুকুরপাড় নামক স্থানে এমন মাছ ধরার আয়োজন যেন আরও একবার মনে করিয়ে দেয় আমরা ‘মাছে ভাতে বাঙালি’।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ) সকাল ৯ টা থেকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ২০ নং রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের সেনিহাড়ি ঐতিহ্যবাহী পুকুরে মাছ ধরা শুরু করেন হাজারো এলাকাবাসী । উৎসব করে মাছ ধরার এ আয়োজন চলে সারাদিন।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ও মাছ ধরার আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, রুহিয়া সেনিহারি ঐতিহ্যবাহী পুরোনো একটি বিশাল পুকুর (দিঘি) রয়েছে। শুরু থেকেই পুকুরে মাছ ধরা উৎসবের আয়োজন করা হয়। কিন্তু কারা প্রথমে এমন আয়োজন করে মাছ ধরার শুরুটা করেছিলেন, তা কেউই সঠিক ভাবে বলতে না পারলেও স্থানীয় বয়োজেষ্ঠ্যদের ভাষ্যমতে কমপক্ষে আনুমানিক ৪০০ বছরের অধিক সময় ধরে এভাবেই পুকুরে মাছ ধরা হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও মঙ্গলবার দিনটিকে মাছ ধরার জন্য নির্ধারণ করে সেনিহারি পুকুরপাড় আয়োজন কমিটি । একযোগে ঝাঁকি জালের মাধ্যমে মাছ ধরা শুরু করেন তারা। এলাকা মানুষের মাছ ধরা দেখতে পুকুরের চারপাশে ভিড় করেন বিভিন্ন ইউনিয়ন প্রায় ২ হাজার দর্শনার্থী ও ক্রেতা। জালে বড় কোনো মাছ ধরা পড়লেই পুকুরের চারপাশ থেকে এসব দর্শনার্থী ও ক্রেতারা জয়ধ্বনি করে আনন্দ প্রকাশ করেন। প্রতি বছর দলবদ্ধ হয়ে মাছ শিকারের বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে পুকুর পাড়ে জড়ো হওয়ার পর একযোগে ছন্দের তালে তালে পানিতে নেমে মাছ ধরা যেন বাঙালির ঐতিহ্যের উৎসব।

স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, সকাল হতে সেনিহাড়ি এলাকার সকল পরিবারের সদস্যরা মাছ ধরার জন্য আসেন। মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে পুকুরের পাড়ে বসে থাকেন। সময় হওয়ার সঙ্গে নেমে পড়েন পুকুর বা দীঘিতে। মাছ ধরার জাল, খইয়া জাল, পলো ও মাছ রাখার খালুই নিয়ে মাছ ধরতে নামেন। আবার যাদের মাছ ধরার সরঞ্জাম নেই তারাও হাত দিয়েই মাছ ধরেন। মাছ ধরা দেখতে এ সময় পুকুরে চারপাশে ভিড় জমায় শতশত মানুষ। মাছ না পেলেও আনন্দের কমতি ছিল না কারও স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ ইসলাম বলেন, ‘মাছ ধরতে আমার ভালো লাগে। আজ অনেক মাছ পেয়েছি। তাই খুশি একটু বেশিই। তবে মাছ ধরার মাছ পাওয়া বড় বিষয় নয়; এখানে অংশ নিয়েছি এটাই আনন্দের ছিল।’

আটোয়ারী উপজেলার সুমন আলী বলেন, আমি জানতে পেরেছি পুকুরটি আনুমানিক ৪০০ বছরের পুরোনো। শত শত মানুষ উৎসব করে মাছ শিকার করা হয় পুকুরটি থেকে। এসে দেখলাম শতাধিক এলাকাবাসী কলা গাছের ভেলা ভাসিয়ে উৎসব করে মাছ শিকার করছেন। পুকুরের চারপাশে হাজারো দর্শক উৎসবের সঙ্গে মাছ শিকারের দৃশ্য দেখছেন। তাদের সঙ্গে আমিও মাছ শিকারের এমন দৃশ্য উপভোগ করেছি। যাওয়ার সময় আমার সাধ্যমতো মাছ আমি ক্রয় করব পরিবারের সদস্যদের জন্য।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।