সত্য সমাচার ডিজিটাল :
আজ ২ জানুয়ারি ঢাকা ১৭ এর বিরাট নির্বাচনী শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়। কাকলি স্টেশনের নিকটবর্তী আরব আমিরাত মৈত্রী মার্কেটের সম্মুখ থেকে শুরু হয় ঢাকা-১৭ এর মস্ত মিছিল। নেতৃত্ব দেন ঢাকা ১৭ এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, যুগ্ম সমন্বয়ক ফরহাদ হালিম ডোনার ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নাজিমুদ্দিন আলম।
প্রায় আধা কিলোমিটার লম্বা উক্ত নির্বাচনী মিছিলে অত্র এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। গুলশান বনানী বারিধারা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বসবাস করেন অভিজাত শ্রেণীর লোকজন। তারা সাধারণত তাদের ব্যবসা এবং শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। নানান কারণে রাজনীতির প্রতি তাদের ঘোরতর অনীহা। মিছিলে আসার তো প্রশ্নই উঠে না। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারে ভিন্ন। ঢাকা গুলশান বনানী এলাকার এগারটি অভিজাত ক্লাব ও সোসাইটির প্রতিনিধিরা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বনানী ক্লাব মাঠের এক সমাবেশে কথা দিয়েছিলেন এবার তারা নির্বাচনে থাকবেন এবং সহযোগিতা করবেন। আজকের মিছিলে তার পূর্ণ প্রতিচ্ছবি আমরা দেখলাম। মিছিলে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের প্রায় সকলে অভিজাত শ্রেণীর লোকজন। মিছিলে অভিজাত অধিবাসীরা যেমন ছিলেন তেমনি ছিলেন দোকানদার ব্যবসায়ী ফুটপাতের সাধারণ মানুষ এবং কর্মজীবী মানুষরা।
মিছিলটি কাকলি থেকে শুরু হয়ে গুলশান ২ হয়ে গুলশান ১ ডিসিসি মার্কেটের সামনে দিয়ে, গাউসুল আজম মসজিদ হয়ে মহাখালী ওয়ারলেস গেট অতিক্রম করে মহাখালী আমতলী গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলটি যত সামনে এগুতে থাকে মিছিলে অংশগ্রহণকারী লোকের সংখ্যাও তত বৃদ্ধি পেতে থাকে। মিছিলটি এক পর্যায়ে সমাবেশে রূপ নেয়।
মিছিল শেষ হয় আমতলীতে। সেখানে প্রধান সমন্বয়ক আব্দুস সালাম বলেন এই দীর্ঘ মিছিল থেকে প্রমাণিত হয় তারেক রহমান ১২ তারিখের নির্বাচনে জিতে যাবেন। আপনারা দেখেছেন দিন যত যাচ্ছে বিএনপি’র প্রতি মানুষের আগ্রহ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল যারা কথা দিলে কথা রাখে। তারেক রহমান আপনাদের যে কথা দিয়েছেন তিনি সেই কথা রক্ষা করবেন। দেশব্যাপী তিনি মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তির পরিবেশ কায়েম করবেন।
তিনি বলেছেন যারা গুপ্ত রাজনীতি করে এবং মানুষের সাথে প্রতারণা করে তাদের ব্যাপারে আপনারা সতর্ক থাকবেন। তারা নানান কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। টাকা পয়সা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করবে। বোরকা পরে জাল ভোট দিবে। এমনকি বোরকার ভিতর আলাদা ব্যালট বহন করে একাধিক ভোট দেয়ার চেষ্টা চালাবে। প্রতিটি ভোটারের প্রতি আপনারা নজর রাখবেন। কোন ভোটার যেন একাধিক ভোট না দিতে পারে। বা ভোট দিতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।
মিছিল শেষে উক্ত এলাকার যানবাহন ব্যবহারকারী এবং দোকানদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। বলেন আমরা রাজনৈতিক কারণে মিছিল করেছি। আপনার স্বাভাবিক যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছি। আপনারা যেন ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন। তিনি নেতাকর্মীদের যার যার এলাকায় গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ জানিয়ে মিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

