লাইফস্টাইল ডেস্ক
চলুন জেনে নিই
১. অস্বাভাবিক ক্লান্তি
কোনো পরিশ্রম ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভূত হলে তা হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে শরীরের পেশি ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, ফলে সহজ কাজেও অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগে।
২. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
হঠাৎ মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া হৃদস্পন্দনের অনিয়ম বা রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর অ্যারিদমিয়ার ইঙ্গিতও দেয়।
৩. দ্রুত বা অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি
অল্প সময়ের মধ্যে ওজন বেড়ে যাওয়া সাধারণত শরীরে তরল জমার লক্ষণ। হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে শরীর পানি ধরে রাখে, ফলে পা, পেট ও মুখ ফুলে যেতে পারে।
৪. বমিভাব ও ক্ষুধামান্দ্য
হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে হজমপ্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এতে বমিভাব, অরুচি ও খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে, যা অনেক সময় গ্যাস্ট্রিক ভেবে ভুল করা হয়।
৫. অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
হৃদপিণ্ড যদি খুব দ্রুত, খুব ধীরে বা অনিয়মিতভাবে ধড়ফড় করে, তাহলে তা হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সিগন্যালের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ায়।
৬. দীর্ঘস্থায়ী কাশি
দীর্ঘদিন কাশি, বিশেষ করে সাদা বা গোলাপি কফসহ কাশি হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার লক্ষণ হতে পারে। ফুসফুসে তরল জমে গেলে এমন কাশি দেখা দেয়।
৭. ঠান্ডা ঘাম
কোনও শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। এটি সাধারণত শরীরের স্ট্রেস রেসপন্সের অংশ।
৮. মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো
রক্তচাপ কমে গেলে বা হৃদযন্ত্র পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে না পারলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন কম পৌঁছায়, ফলে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানোর ঘটনা ঘটে।
৯. ঘুমের সমস্যা
রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড় করে ঘুম ভেঙে যাওয়া হৃদরোগের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।
১০. মাড়ির প্রদাহ ও রক্তপাত
মাড়ি ফুলে যাওয়া বা রক্ত পড়া শুধু দাঁতের সমস্যা নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী মাড়ির সংক্রমণ শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
১১. নাক ডাকা ও শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া
অস্বাভাবিক নাক ডাকা বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
১২. বুক, ঘাড় ও হাতে ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম ক্লাসিক লক্ষণ হলো বুকের ব্যথা যা বাম হাত, কাঁধ, ঘাড় বা পিঠে ছড়িয়ে যেতে পারে। অনেক সময় এটি চাপ বা জ্বালাপোড়া হিসেবে অনুভূত হয়।
১৩. শ্বাসকষ্ট
অল্প কাজেই শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া হৃদযন্ত্র দুর্বলতার অন্যতম লক্ষণ। ফুসফুসে তরল জমলেও এমন সমস্যা হয়।
১৪. বুকের ব্যথা বা চাপ
বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী অনুভূতি বা জ্বালাপোড়া হার্ট অ্যাটাকের প্রধান সতর্ক সংকেত। এটি কয়েক মিনিট থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
১৫. হাঁটার সময় পায়ে খিঁচুনি
হাঁটার সময় উরু, পা বা নিতম্বে ব্যথা বা খিঁচুনি রক্তনালীতে ব্লক বা সঞ্চালন সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলোর এক বা একাধিক যদি আপনার শরীরে দেখা দেয়, তবে সেটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সচেতনতাই পারে একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে আপনাকে রক্ষা করতে।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.