ঢাকা১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরিতে আমাদের যা করা উচিত

admin
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অনলাইন ডেক্স:

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হাঁটুর ভেতরে দুটি এবং বাইরে দুটি লিগামেন্ট ও দুটি মিনিস্কাস থাকে, যা হাঁটুকে স্থিতিশীল রাখে। খেলাধুলার সময় আঘাত পেলে বাইরের লিগামেন্ট থেকে শুরু করে ভেতরের লিগামেন্ট পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাইরের লিগামেন্ট অল্প, মধ্যম বা তীব্র মাত্রায় আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। বাইরে তীব্র আঘাত লাগলে ভেতরের লিগামেন্টও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, এমনকি সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যেতে পারে। প্রাথমিক চিকিৎসায় অবশ্যই বরফ সেঁক ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপর এক্স-রে ও এমআরআইয়ের মাধ্যমে আঘাতের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বাইরের লিগামেন্টের আঘাত কম হলে কয়েকদিন বিশ্রাম ও নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়ামেই সেরে ওঠা সম্ভব। তবে ভেতরের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে খেলোয়াড়ের মাঠে ফিরতে সময় লাগে। লিগামেন্ট সম্পূর্ণ ছিঁড়ে গেলে তা নিজে থেকে জোড়া লাগার সম্ভাবনা থাকে না। সেক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতিতে নতুন লিগামেন্ট প্রতিস্থাপন করতে হয়। আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে হাঁটু বা গোড়ালির পাশ থেকে টিস্যু নিয়ে নতুন লিগামেন্ট বসানো যায়। অপারেশনের পর নির্দিষ্ট সময় ধরে রিহ্যাবিলিটেশন অত্যন্ত জরুরি।

লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কিছু লক্ষণ রয়েছে। যেমন- হাঁটার সময় হাঁটু বেঁকে যাওয়া, হাঁটুতে শক্তি না পাওয়া, পায়ের পেশি শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এসব উপসর্গের ভিত্তিতে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ইনজুরি শনাক্ত করা যায়। বাকি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এমআরআই প্রয়োজন হয়। সঠিক রোগনির্ণয়ের পর নির্ধারণ করা হয় সার্জারি লাগবে কি না। এ ধরনের সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা হলো আর্থোস্কপি সার্জারি।

আর্থোস্কপি সার্জারির সুবিধা হলো, সকালে ভর্তি হয়ে দুপুরে অপারেশন করলে অনেক ক্ষেত্রে রোগী সেদিন রাতেই বাড়ি ফিরতে পারেন। এতে রক্তক্ষরণ খুব কম হয় এবং মাত্র দু-তিনটি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে যন্ত্র প্রবেশ করিয়ে লিগামেন্ট ঠিক করা হয়। সাধারণ রোগী অপারেশনের কয়েক সপ্তাহ পর স্বাভাবিক কাজে ফিরতে পারেন, তবে কিছুদিন ক্রাচ ব্যবহার করতে হয়। খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সঠিক ব্যায়াম ও রিহ্যাবিলিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তা ঠিকভাবে না হলে হাঁটু শক্ত বা জমে যেতে পারে। সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম- প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ।

অপারেশনের তিন মাসের মধ্যে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিক চলাফেরা ও ওয়ার্মআপ শুরু করতে পারেন। ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত ব্যায়াম করতে হয়। নতুন লিগামেন্ট হাড়ের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে মিশে যেতে ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগে। এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খেলাধুলায় ফেরা যায়। ইনজুরি এড়াতে শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও জরুরি। যাদের লিগামেন্ট স্বাভাবিকের তুলনায় ঢিলা, তারা সহজে ইনজুরিতে পড়েন। কারণ তাদের জয়েন্টের ভারসাম্য ও পেশির সমন্বয় কম থাকে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম, খেলা অনুযায়ী ওয়ার্মআপ এবং আত্মরক্ষার কৌশল জানা প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য অপরিহার্য।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।