সত্য সমাচার ডিজিটাল:
প্রাচীন ও মধ্যযুগ:
সিরাজগঞ্জ অঞ্চল প্রাচীনকালে পুন্ড্রবর্ধন জনপদের অংশ ছিল।যমুনা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চল বাণিজ্য, কৃষি ও নৌপরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত ছিল।
পাল ও সেন আমলে এই অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বসতি ও নদীবন্দর গড়ে ওঠে।
মুঘল ও নবাবি আমল:
মুঘল আমলে সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে শিক্ষা, বাণিজ্য ও নৌ-রুটের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে।মুঘল শাসনের সময় নদীপথে মালপত্র পরিবহনের জন্য সিরাজগঞ্জের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়।
ব্রিটিশ আমল ও জেলার নামকরণ:
সিরাজগঞ্জ নামের উৎপত্তি নিয়ে প্রচলিত ধারণা: সমসাময়িক ব্যবসায়ী সিরাজউদ্দিন নামে এক ধনী বণিকের নাম থেকে “সিরাজগঞ্জ” নামের সৃষ্টি।ব্রিটিশ আমলে সিরাজগঞ্জ ছিল অন্যতম বৃহৎ আড়তকেন্দ্র, বিশেষ করে পাট (jute) বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত। ১৮৮০-এর দশকে সিরাজগঞ্জ ছিল ভারত উপমহাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ পাটের হাট।
স্বাধীনতা আন্দোলনে সিরাজগঞ্জ:
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে সিরাজগঞ্জের মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সিরাজগঞ্জে বহু গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
বোম্বিং, রণাঙ্গন, হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ—সবই ছিল অত্যন্ত সক্রিয়।
জেলা হিসাবে যাত্রা:
সিরাজগঞ্জ প্রথমে বৃহত্তর পাবনা জেলার একটি মহকুমা ছিল।
১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে সিরাজগঞ্জকে পূর্ণ জেলা ঘোষণা করা হয়।
ভূগোল ও অর্থনীতি:
জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদী এর অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবহন ব্যবস্থার ভিত্তি।এলাকা পাট, খাদ্যশস্য, মিষ্টান্ন (বিশেষ করে রসমালাই, পেথা, করমচা মিষ্টি) এবং তাঁত শিল্পের জন্য পরিচিত।
বাংলাদেশের বৃহত্তম সেতু বঙ্গবন্ধু সেতু সিরাজগঞ্জের কাছে অবস্থিত, যা দেশের পূর্ব-পশ্চিম সংযোগে বিপ্লব ঘটিয়েছে।
সংস্কৃতি:
সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্প বিখ্যাত—এখানে প্রচুর তাঁত কারখানা রয়েছে। লোকসংগীত, পালাগান, গম্ভীরা, বাউল গানের বিশেষ প্রচলন রয়েছে।

