ঢাকা২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিগারেট ছাড়াও ফুসফুসের ক্ষতি করে যে ৫ অভ্যাস

admin
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লাইফস্টাইল ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফুসফুসের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান হলেও শুধু তামাকের ধোঁয়াকেই এ ঝুঁকির জন্য দায়ী করা যায় না। প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস এবং দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশও ফুসফুসের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যের ধূমপানের ধোঁয়া, রান্নাঘরের ধোঁয়া, ধুলাবালি ও রাসায়নিক কণার সংস্পর্শ কিংবা ঘরের ভেতর মশার কয়েল ও ধূপের ধোঁয়া সবই দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ধূমপান না করলেও এসব উৎস থেকে নিয়মিত ক্ষতিকর ধোঁয়া ও রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুসের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ফুসফুস সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন জীবনের কয়েকটি বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি।

পরোক্ষ ধূমপান

ধূমপান না করলেও আশপাশের মানুষের সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকতে পারে। এই ধোঁয়ার বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান শ্বাসনালি পেরিয়ে ফুসফুসে পৌঁছে কোষের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন এমন ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ও জিনগত ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই অন্যের ধূমপানের ধোঁয়া থেকেও দূরে থাকার চেষ্টা করা প্রয়োজন।

রান্নাঘরের ধোঁয়া

রান্নার জায়গায় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে ধোঁয়া সহজে ঘরের ভেতরে জমে যায়। গ্যাস বা অন্যান্য জ্বালানি পোড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল ও মশলা পুড়ে যে ধোঁয়া তৈরি হয়, তাতেও ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে। বেঞ্জিন ও ফরম্যালডিহাইডের মতো উপাদান দীর্ঘদিন শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে ফুসফুসের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় রান্নাঘরে কাজ করেন, তাদের জন্য রান্নার স্থানটি ধোঁয়ামুক্ত ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল উপযোগী রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

ধুলাবালি ও রাসায়নিক কণায় অসতর্কতা

নির্মাণকাজের এলাকা, শিল্পকারখানা কিংবা অতিরিক্ত ধুলাবালিযুক্ত জায়গায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে নানা ধরনের ক্ষতিকর কণা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকতে পারে। কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত ধোঁয়া, ধুলা বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের এ বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এ ধরনের পরিবেশে কাজ করার সময় উপযুক্ত সুরক্ষা মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। একইভাবে নির্মাণাধীন ভবন বা অতিরিক্ত ধুলাবালিযুক্ত রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময়ও নাক-মুখ ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিনের কাশি অবহেলা করা

কাশি দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও অনেকেই বিষয়টিকে সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বিশেষ করে শুকনো কাশি বা শ্বাসকষ্টের কারণ সবসময় সাধারণ কোনো সমস্যা নাও হতে পারে। ফুসফুসে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই কয়েক সপ্তাহ ধরে কাশি বা শ্বাসকষ্ট চলতে থাকলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘরে নিয়মিত কয়েল, ধূপ বা সুগন্ধি মোমবাতি পোড়ানো

মশা তাড়াতে ঘরের মধ্যে দীর্ঘ সময় কয়েল বা ধূপ জ্বালালে উৎপন্ন ধোঁয়া সরাসরি ঘরের বাতাসে মিশে যায়। বিশেষ করে জানালা-দরজা বন্ধ থাকা অবস্থায় এই ধোঁয়ার ঘনত্ব আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে শ্বাসতন্ত্রে নানা ধরনের ক্ষতিকর কণা ও রাসায়নিক প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।

সুগন্ধি মোমবাতি পোড়ানোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। কিছু মোমবাতির ধোঁয়ায় বেঞ্জিন ও ফরম্যালডিহাইডের মতো রাসায়নিক থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বদ্ধ ঘরে একটি মশার কয়েল জ্বালালে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম বিষাক্ত কণা তৈরি হতে পারে, যার পরিমাণকে প্রায় ১০০টি সিগারেটের ধোঁয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এমন এক্সপোজার শ্বাসতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। তাই শুধু ধুমপান থেকে বিরত থাকলেই হবে না, ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখা, ধোঁয়া ও ধুলাবালি এড়িয়ে চলা এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়াও প্রয়োজন

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।