ঢাকা১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মানসিক স্বাস্থ্য: মনোবিদের বিশ্লেষণ

admin
নভেম্বর ২২, ২০২৫ ১০:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ড. এ এইচ এম মাহবুবুর রহমান

স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেক ছেলে–মেয়ে তাদের প্রথম প্রেম কিংবা রোমান্টিক সম্পর্কের অভিজ্ঞতা লাভ করে। এই সম্পর্কগুলো সাধারণত গভীর আবেগ, স্বপ্ন ও আশা দিয়ে ভরা থাকে। তাই যখন কোনো সম্পর্ক ভেঙে যায়, তখন মানসিকভাবে তার প্রভাব অনেক বেশি তীব্র অনুভূত হয়, যেন সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে এ কথা বলা যায়, কিশোর ও তরুণ বয়সে সম্পর্ক ভাঙা কেন এত কষ্ট দেয়, কীভাবে তা মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে এবং এ থেকে সুস্থভাবে বেরিয়ে আসার উপায় কী—তা বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

কৈশোর ও তরুণ বয়সে মস্তিষ্ক ও ব্যক্তিত্ব দুটোই এখনও বিকাশমান পর্যায়ে থাকে। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচয় খোঁজে—আমি কে, আমাকে কে ভালোবাসে, আমি কতটা মূল্যবান, আমি কার কাছে গুরুত্বপূর্ণ—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে থাকে। কোনো রোমান্টিক সম্পর্ক তখন শুধু “বয়ফ্রেন্ড–গার্লফ্রেন্ড থাকা” নয়, বরং তাদের আত্মপরিচয়ের একটি অংশ হয়ে দাঁড়ায়। তারা ভাবে, “আমি ভালোবাসা পাচ্ছি”, “আমি আকর্ষণীয়”, “আমি কাউকে খুব গুরুত্বপূর্ণ”, “আমার কথা কেউ গভীরভাবে বোঝে।” ফলে যখন সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়, তখন শুধু একজন মানুষকে হারানোর বেদনা নয়, বরং নিজের ভেতরের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার অনুভূতি জন্ম নেয়। এই কারণে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেমের সম্পর্ক ভাঙার পর মানসিক আঘাত অনেক বেশি তীব্র হয়।

ধরা যাক, স্কুল স্তরের একটি উদাহরণ। ক্লাস নাইন বা টেনের এক ছেলে আর এক মেয়ে বন্ধু হতে হতে একসময় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ল। তারা হয়তো বাড়িতে কাউকে কিছু বলেনি, কিন্তু নিজেদের জন্য এই সম্পর্কটি হয়ে উঠল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফোনে কথা, মেসেঞ্জারে চ্যাট, ক্লাসের ফাঁকে একসাথে থাকা—সবকিছুতেই এক ধরনের উত্তেজনা ও আনন্দ কাজ করে। তারা ভবিষ্যৎ নিয়েও কল্পনা করতে শুরু করে, একসাথে পড়াশোনা, একসাথে থাকা ইত্যাদি। হঠাৎ কোনো ভুল বোঝাবুঝি, সহপাঠীর গসিপ, কিংবা পরিবার থেকে চাপ আসার কারণে সম্পর্কটি ভেঙে গেল। তখন ছেলেটি বা মেয়েটির যেকোনো একজন নিজেকে ভীষণ অপমানিত, প্রত্যাখ্যাত ও একাকী মনে করতে পারে। ক্লাসে গেলে সে অস্বস্তি অনুভব করে, বুক ধড়ফড় করে, পড়ায় মন বসে না, অন্যরা যেন তাকে নিয়ে কথা বলছে—এমন ভয় কাজ করে। এই ধরনের মানসিক চাপ থেকে ঘুম কমে যাওয়া, মাথাব্যথা, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, মন-মরা ভাব—এসব শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যা আসলে স্ট্রেসের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হলেও শিক্ষার্থীর জীবনে বড় সমস্যা তৈরি করে।

কলেজ পর্যায়ে এসে সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বাড়ে। এই সময়ে অনেকেই আগের চেয়ে বেশি স্বাধীনতা পায়, বাড়ি থেকে দূরে থাকতে পারে, নতুন পরিবেশে নিজেকে গুছিয়ে নিতে হয়। ছেলে–মেয়েদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বেশি হয়, একসাথে সময় কাটানো, ঘুরতে যাওয়া, বাড়ির বাইরের একটি নিজস্ব জগৎ তৈরি হয়ে যায়। ধরুন, এক কলেজে প্রথম বর্ষের এক মেয়ের সাথে একজন সিনিয়র ছেলের প্রেমের সম্পর্ক হল। নতুন পরিবেশে সেই সিনিয়র ছেলেটি মেয়েটির জন্য হয়ে উঠল নিরাপত্তা আর মানসিক ভরসার জায়গা। সে তার পারিবারিক সমস্যা, ভয়, স্বপ্ন—সবকিছু শেয়ার করল তার সাথে। কিছুদিন পর যদি কোনো কারণে সম্পর্কটা ভেঙে যায়—ধরুন, ছেলেটি আর আগের মতো আগ্রহ দেখাল না, অন্য কারও সাথে মিশতে শুরু করল, কিংবা ভবিষ্যৎ বা ক্যারিয়ারের কথা বলে দূরে সরে গেল—তাহলে মেয়েটির মনে গভীর ভেঙে পড়া শুরু হতে পারে। সে ভাবতে পারে, “আমার মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো ভুল আছে”, “আমি যথেষ্ট ভালো নই”, “ও আমাকে আর কেন ভালোবাসে না?” এই ভাবনা থেকে আত্মসম্মানবোধ কমে যায়, নিজেকে তুচ্ছ মনে হয়। মন খারাপ, কান্না পায়, ক্লাসে যেতে ইচ্ছে করে না, বই খুললেও পড়ায় মন বসে না। আবার অনেক সময় সে সামাজিক মাধ্যমে বারবার ছেলেটির প্রোফাইল চেক করে, কার সাথে কথা বলছে, কোথায় যাচ্ছে—এসব নিয়ে অস্বাস্থ্যকর চিন্তায় ডুবে থাকে। মানসিক স্বাস্থ্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এগুলো ডিপ্রেশন ও এনজাইটি বা উদ্বেগের সূচক হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সম্পর্কের গভীরতা ও স্থায়িত্ব অনেক সময় আরও বেশি হয়। অনেক দম্পতি প্রথম বর্ষ থেকেই একসাথে থাকে—ক্লাস, গ্রুপ স্টাডি, ক্লাব, প্রোজেক্ট—সব কিছুতেই একে অপরের পাশে। ধীরে ধীরে তারা ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে পরিকল্পনা করতে শুরু করে—কে কী চাকরি করবে, কোথায় থাকবে, পরিবারকে কীভাবে রাজি করানো হবে, বিয়ে কবে হবে ইত্যাদি। তখন এই সম্পর্কটি শুধু বর্তমান আনন্দ নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবনের বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়। এখন ভাবুন, চার-পাঁচ বছর ধরে চলা এই সম্পর্কটি যদি শেষ বর্ষে এসে ভেঙে যায়, হয়তো পরিবারের আপত্তি, ক্যারিয়ার নিয়ে মতবিরোধ, বা বিশ্বাসঘাতকতার কারণে—তখন মানসিকভাবে এর আঘাত অনেক ছাত্রছাত্রীর জন্য ভয়াবহ হতে পারে। তারা শুধু একজন সঙ্গীকে হারায় না, বরং যে ভবিষ্যতের স্বপ্ন এঁকেছিল সেটাই এক ঝটকায় ভেঙে যায়। অনেকের মধ্যে শূন্যতা, জীবনের প্রতি বিরক্তি, সব কিছু অর্থহীন মনে হওয়া, রাতজাগা, স্মৃতিচারণ, পুরোনো মেসেজ বা ছবি বারবার দেখা—এসব আচরণ দেখা যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে পড়াশোনার ফলাফল মারাত্মকভাবে খারাপ হয়ে যেতে পারে; কেউ ক্লাস এড়িয়ে চলে, কেউ বন্ধুদের থেকে নিজেকে আলাদা করে রাখে।

মনোরোগবিদ্যার দৃষ্টিতে, প্রতিটি সম্পর্ক ভাঙার পর মানসিক রোগ হবে—এমনটা নয়। তবে সম্পর্ক ভাঙা ডিপ্রেশন, এনজাইটি, প্যানিক অ্যাটাকের মতো সমস্যার জন্য “ট্রিগার” হিসেবে কাজ করতে পারে, বিশেষ করে যারা আগে থেকেই মানসিকভাবে ভঙ্গুর বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। যাদের আত্মসম্মান কম, পরিবারে ঝগড়া–কলহ বেশি, আগে কোনো ট্রমা বা নির্যাতনের অভিজ্ঞতা আছে, বা আগে কখনো ডিপ্রেশনে ভুগেছে—তাদের ক্ষেত্রে সম্পর্ক ভাঙার পর মানসিক ভেঙে পড়া তুলনামূলকভাবে বেশি তীব্র হয়। দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকা, কোনো কিছু ভালো না লাগা, ক্ষুধা বা ঘুমের পরিবর্তন, পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, নিজেকে ভয়ানক অপরাধী বা ব্যর্থ মনে হওয়া, জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা—এসবই ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে আত্মহানির চিন্তা, “আমার বেঁচে থাকার দরকার নেই” ধরনের ভাবনা চলে আসা খুবই উদ্বেগজনক সতর্ক সংকেত, যা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও সম্পর্ক ভাঙার প্রভাব ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। আমাদের সমাজের অনেক জায়গায় স্কুল বা কলেজে ছেলে–মেয়ের প্রেমকে এখনও “খারাপ কিছু”, “পথভ্রষ্ট হওয়া”, বা “চরিত্রহীনতা” হিসেবে দেখা হয়। যদি কোনো স্কুল-কলেজের প্রেমের সম্পর্ক ধরা পড়ে এবং অভিভাবক বা শিক্ষকরা চাপ দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়, তখন বিশেষ করে মেয়েদের বেশি সামাজিক অপমান, কানাঘুষা, চরিত্রহনন ইত্যাদির মুখোমুখি হতে হয়। এর ফলে মেয়েটি গভীর লজ্জা, অপরাধবোধ এবং মানসিক আঘাত অনুভব করে। অন্যদিকে, ছেলেদের ক্ষেত্রে অনেক সময় বলা হয়, “পুরুষ হয়েছো, এতো কাঁদাকাঁদি কিসের”, “আরেকজনকে খুঁজে নাও”, “মনে কিছু রাখো না”—ইত্যাদি। ফলে তারা নিজের কষ্টটা ভিতরে জমিয়ে রাখে এবং রাগ, আক্রমণাত্মক আচরণ বা নেশাদ্রব্যের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আত্মদোষারোপ, আর ছেলেদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোর বা উদাসীন ভান—দুটোই মানসিকভাবে অস্বাস্থ্যকর প্রতিক্রিয়া।

তবুও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যায়, সঠিক সহায়তা ও সমর্থন পেলে সম্পর্ক ভাঙার মতো কঠিন অভিজ্ঞতাও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। কেউ যদি এই ব্যথার সময়টায় পরিবারের একজন বুঝদার সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু, শিক্ষক বা কাউন্সেলরের সহায়তা পায়, তাহলে সে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে যে জীবনে সব সম্পর্ক টিকে থাকে না, কারও প্রত্যাখ্যান মানে নিজের মূল্য হারানো নয়। সময়ের সাথে সাথে সে উপলব্ধি করতে পারে, কোথায় ভুল হয়েছিল, ভবিষ্যতে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ধরনের সীমারেখা, সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকা প্রয়োজন। এভাবে মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং ঘটনা থেকেও এক ধরনের মানসিক শক্তি ও দৃঢ়তা তৈরি হয়, যাকে আমরা মানসিক সহনশক্তি বা “রেজিলিয়েন্স” বলি।

একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি বলব, সম্পর্ক ভাঙার পর শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো একদম নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, কারও সাথে কিছু না বলা, সব কষ্ট একা বয়ে চলা। যদি কেউ ভীষণ কষ্টে থাকে, তবে অন্তত একজন বিশ্বাসযোগ্য মানুষ—ঘনিষ্ঠ বন্ধু, ভাই–বোন, প্রিয় শিক্ষক বা কাউন্সেলরের সাথে খোলামেলা কথা বলা খুবই জরুরি। নিয়মিত ঘুমের চেষ্টা করা, মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত ডুবে না যাওয়া, শরীরচর্চা করা, দৈনন্দিন কাজ ও পড়াশোনার কিছু রুটিন বজায় রাখা—এসব ছোট ছোট কাজও মানসিক স্থিতি ফিরে পেতে সাহায্য করে। লেখালেখি, ছবি আঁকা, গান শোনা, কোরআন/ধর্মগ্রন্থ পাঠ, প্রার্থনা বা ধ্যান—এই ধরনের আত্মিক ও সৃজনশীল কাজ অনেক সময় ব্যথা প্রকাশ ও হালকা করার নিরাপদ পথ হতে পারে। তবে যদি দেখা যায়, কয়েক সপ্তাহ পার হয়ে গেছে, তবুও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছে না, সব সময় আত্মহত্যা, মৃত্যু, নিজেকে আঘাত করার কথা মনে হচ্ছে, তখন অবশ্যই দেরি না করে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে থেরাপি ও ওষুধ—দুই মিলে অনেক ক্ষেত্রেই খুব ভালো ফল পাওয়া যায়।

সবশেষে বলা যায়, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছেলে–মেয়েদের প্রেমের সম্পর্ক ভাঙা শুধু একটি “সাধারণ ঘটনা” নয়; বরং তা তাদের আত্মপরিচয়, আত্মসম্মান এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্নের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। তাই এই সম্পর্কগুলোর সমাপ্তিকে “তুচ্ছ”, “নিরর্থক” বা “শখের প্রেম” বলে উপহাস করলে শিক্ষার্থীরা আরও একা হয়ে যায় এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। বরং আমাদের দায়িত্ব হলো, তাদের কষ্টকে সত্যিকারের কষ্ট হিসেবে সম্মান দেওয়া, সহানুভূতি দেখানো, প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা দেওয়া এবং বোঝানো যে এই একবারের ব্যথা দিয়েই জীবন শেষ হয়ে যায় না। সময়ের সাথে তারা আরও শক্ত, পরিণত এবং সচেতন হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে, যদি আমরা তাদের পাশে দাঁড়াই এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বকে আন্তরিকভাবে স্বীকার করি।

ড. এ এইচ এম মাহবুবুর রহমান
শিক্ষক, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।