ঢাকা৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সচেতন থাকলে রোজাও নিরাপদ লিভার রোগীর খাদ্যাভ্যাস

admin
মার্চ ২, ২০২৬ ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক

০২ মার্চ ২০২৬

রমজান মাস হলো আত্মসংযম, শুদ্ধতা ও আধ্যাত্মিকতার সময়। তবে লিভারের রোগীর জন্য দীর্ঘ সময় উপবাস শরীরের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে শরীর থেকে পানি কমে যাওয়া, রক্তে চিনির মাত্রা কমে যাওয়া, শরীরের লবণ ও খনিজের ভারসাম্যহীনতা এবং এমনকি জটিলতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

লিভার রোগ অনেক রকম। রোগের ধরন এবং তীব্রতার ওপর রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, লিভার সিরোসিস রোগীর মধ্যে যারা পেটে পানি জমে ফোলা, চোখ ও ত্বকে হলদে ভাব, খাদ্যনালী বা পাকস্থলীতে রক্তপাত অথবা লিভারের কারণে মস্তিষ্কের কার্যক্রমে ব্যাঘাতের ইতিহাস আছে, তাদের জন্য রোজা ঝূঁকিপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ রোগীরা যদি স্থিতিশীল অবস্থায় থাকে, অনেক সময় নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন, তবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য। মেটাবলিক অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণই প্রধান। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে রোজা রাখা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব। তবে অ্যাকিউট হেপাটাইটিস বা ডিকম্পেনসেটেড সিরোসিসের ক্ষেত্রে সাধারণত রোজা না রাখাই নিরাপদ।

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরে শক্তির জন্য সংরক্ষিত চিনি-ভান্ডার ফুরিয়ে যায় এবং শরীর চর্বি ভেঙে শক্তি উৎপাদন শুরু করে। লিভার রোগীর ক্ষেত্রে তাতে চাপ বাড়ে। তাই খাদ্য ও তরল গ্রহণে সুষম পরিকল্পনা অপরিহার্য। সেহরিতে রাখুন ওটস, লাল চালের ভাত বা আটার রুটি। পর্যাপ্ত প্রোটিন, যেমন- ডিমের সাদা অংশ, ডাল, মাছ বা চর্বিহীন মুরগি খাওয়া নিরাপদ। আঁশযুক্ত খাবার, যেমন- সবজি ও ফল, দুই-তিন গ্লাস পানি গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত লবণ, বিশেষ করে পেটে জল জমে থাকলে, এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার পরিহার করতে হবে।

ইফতারে প্রথমে খেজুর এক বা দুটি এবং পানি পান করুন। এরপর ফল বা স্যুপ খান। তারপর অল্প পরিমাণ ভাত বা রুটি এবং প্রোটিন গ্রহণ করুন। ধীরে ধীরে খান; একসঙ্গে অতিরিক্ত খেলে চর্বিযুক্ত লিভারে সমস্যা বাড়তে পারে এবং সিরোসিস রোগীর ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। সিরোসিস ও পেটে জল জমা থাকা রোগীর জন্য লবণ নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। দৈনিক লবণ প্রায় দুই গ্রাম সীমিত রাখা উচিত। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন। কার্বোনেটেড পানীয় পরিহার করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত পানি কমানোর ওষুধ ব্যবহার না করা নিরাপদ। অনেকেই মনে করেন, লিভার রোগে প্রোটিন কম খেতে হবে। তবে অধিকাংশ রোগীর জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন প্রয়োজন। অপুষ্টি হলে মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শে সাময়িকভাবে প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

তখনই রোজা ভাঙবেন, যদি অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব, রক্তবমি বা কালো পায়খানা, হলদে ভাব বেড়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা আচরণগত পরিবর্তন হয়। রোজার সময় অনেক ওষুধের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হয়। চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে সেহরি ও ইফতারের সময় অনুযায়ী ডোজ ঠিক করতে হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।