সত্য সমাচার ডেক্স :
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আবাহনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে বাঙালি হিন্দু জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজন শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। আজ মহালয়ার মাধ্যমে এই উৎসব শুরু হয়েছে। মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা- এই তিন পর্ব মিলে দুর্গোৎসব। মহালয়ায় মণ্ডপে-মণ্ডপে চন্ডীপাঠ, মঙ্গলঘট স্থাপন, ঢাক-কাঁসা ও শঙ্খ বাজিয়ে দেবীকে আবাহনের মধ্য দিয়ে সূচনা হয়েছে দুর্গোৎসবের।
শরতের আগমনে দুর্গাপূজার আগমনী বার্তাও ধ্বনিত হয়। আখড়াগুলোয় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মৃৎশিল্পীরা। দিন-রাত চলছে কাজ, দম ফেলার অবসর নেই শিল্পীদের। কয়েকটি শিল্পালয় ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটিতে ১৫ থেকে ৪০টি পর্যন্ত প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে।
শিল্পালয়ের চারপাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা এবং লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ।
মাটির কাজ শেষে এখন চলছে রঙের খেলা। এরপর সাজসজ্জা। তারপর মহাষষ্ঠীর দিনে মৃন্ময়ী মূর্তি যাবে মণ্ডপে মণ্ডপে। চট্টগ্রামের দেওয়ানজী পুকুর পাড়ের মৃৎশিল্পী নয়ন পাল বলেন, আমরা ফরমাশ অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি কিছু অতিরিক্তও করি। অনেকে শেষ মুহূর্তে কিনতে আসেন, আগেভাগে অর্ডার দেন না। আষাঢ়ের শুরু থেকেই তাদের প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয় বলে জানান নয়ন।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নিখিল কান্তি নাথ বলেন, এবার নগরীর ১৬ থানায় ২৯৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। পূজা উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার ১৫ থানায় এবার ২ হাজার ২০২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। এর মধ্যে প্রতিমা পূজা ১ হাজার ৫৮৫টি এবং ঘটপূজা ৬১৭টি। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা বিবেচনায় এবার ৩৫৬টি পূজামণ্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৭১৬টিকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ১ হাজার ১৩০টিকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৪০টি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আর ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হবে।

