সত্য সমাচার ডেক্স
২৭ নভেম্বর ২০২৫,
প্রকৃতিতে শীতের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। শিশুর যত্নেও কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। বাবা-মায়ের রয়েছে নানা প্রশ্ন। সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি তা হলো, ত্বকের যত্নে কি লোশন বা তেল ব্যবহার করা যাবে? হ্যাঁ, শীতের সময় ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়। ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যেতে পারে। লোশন বা তেল ব্যবহার করা যাবে। এমনকি সরিষার তেল ব্যবহারেও কোনো সমস্যা নেই। বেবি অয়েল, কোল্ড ক্রিম, লিপজেল, ময়েশ্চারাইজিং লোশন ইত্যাদি লাগানো যেতে পারে। তবে মানসম্মত ও ত্বকের জন্য স্যুট করে- এমন ব্র্যান্ড ব্যবহার করতে হবে। খেয়াল রাখুন, এগুলো ব্যবহারে ত্বকে কোনো অ্যালার্জি বা ফুসকুঁড়ি ওঠে কিনা। যদি এমন হয়, তাহলে ওই ব্র্যান্ড বন্ধ করে অন্য ব্র্যান্ড ব্যবহার করে দেখুন।
শরীরে তেল মালিশ করার যে রীতি আমাদের দেশে প্রচলিত, তা ঠিক কিনা- এমন প্রশ্ন প্রায়ই শুনতে হয়। ইতোমধ্যে বলেছি, শরীরে তেল মালিশ করলে কোনো ক্ষতি নেই। কেউ কেউ ঠাণ্ডা লেগে গেলে বুকে-পিঠে গরম সরিষার তেল কিংবা তেলের সঙ্গে রসুন মিলিয়ে মালিশ করতে বলেন। এতে রোগী হয়তো কিছুটা আরাম পেতে পারে। তবে শ্বাসকষ্ট, ঠাণ্ডা বা কাশির সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করা উচিত। বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে এসব সমস্যায় অতিসত্বর সঠিক চিকিৎসা করা আবশ্যক। অনেকে ঠাণ্ডা লেগে নাক বন্ধ হলে নাকের ফুটোয় সরিষার তেল দেন। এটা ঠিক নয়। শীতের সময় ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থেকে রেহাই পেতে গরম কাপড় পরাতে হবে। কোনোভাবেই যেন ঠাণ্ডা না লাগে, তাই মায়েদের চেষ্টা থাকে শিশুকে গরম কাপড়ে মুড়িয়ে রাখার। কিন্তু গরম কাপড় পরানোর ব্যাপারেও কিছু সাবধানতা অবশ্যই রয়েছে। শীতের হাত থেকে শিশুকে বাঁচাতে একটু সতর্ক তো থাকতেই হবে, তবে খেয়াল রাখবেন, যেন শিশুকে গরম কাপড়ে পেঁচিয়ে রাখায় সে ঘেমে একাকার না হয়ে যায়। কারণ ঘাম বসে গিয়েও শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। রোদে রাখার কথা বলেন অনেকে। দিনের কিছু সময় রোদ শিশুর জন্য স্বাস্থ্যকর বটে। কারণ সূর্যের আলোর সঙ্গে শরীরে ভিটামিন-ডি তৈরি হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিদিন ঘণ্টাখানেক রোদে রাখা যেতেই পারে। তবে সারাদিন রোদে রাখা ভালো নয় কারও জন্য। রোদে রেখে তেল মালিশ করার প্রচলন আছে কোথাও কোথাও। এটি করলে যে কোনো ক্ষতি আছে, তা নয়। তবে নেই কোনো বাড়তি সুবিধাও।
শীতে শিশুর স্নান নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। পানির তাপমাত্রা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েও রয়েছে জল্পনা। আর দু-চারদিন স্নান না করানোর প্রচলন হরহামেশাই দেখা যায়। এমনিতে শীতের সময় স্নানে আসে অনীহা। আসলে প্রতিদিনই স্নান করা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি। সেজন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। কুসুম গরম পানিতে স্নান করলে মনও সতেজ হয়। অবশ্য খুব বেশি ঠাণ্ডা বা খুব বেশি গরম পানিতে গোসল করা ঠিক নয়। অনেকে আবার চুল ভেজাতে চান না ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার ভয়ে। আসলে চুল প্রতিদিন ভেজালেও কোনো ক্ষতি নেই। তবে তাড়াতাড়ি আবার ভালোমতো শুকিয়ে নিতে হবে। দীর্ঘ সময় চুল ভেজা রাখা উচিত নয়।

