অনলাইন ডেক্স :
১৭ ডিসেম্বর ২০২৫,
অ্যাজমা বা হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত শ্বাসযন্ত্রের রোগ। ধুলাবালি, ঠান্ডা বাতাস, ধোঁয়া, বায়ুদূষণ, ভাইরাস সংক্রমণ কিংবা বিভিন্ন অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এলে শ্বাসনালিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে শ্বাসনালির মাংসপেশি সংকুচিত হয়ে যায় (ব্রঙ্কোস্পাজম), শ্বাসনালির ভেতরের দেয়াল ফুলে ওঠে এবং অতিরিক্ত শ্লেষ্মা উৎপন্ন হয়। এসব পরিবর্তনের কারণে ফুসফুসে বাতাস ঢোকা ও বের হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি হয়, যা হাঁপানি রোগীর জন্য মারাত্মক কষ্টদায়ক হতে পারে।
অ্যাজমার প্রধান লক্ষণ হলো- ঘন ঘন কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ বা ভারী ভাব এবং বুকের ভেতর সাঁই সাঁই শব্দ। অ্যাজমা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ নয়। তবে সঠিক ও নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করলে একজন রোগী স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনযাপন করতে পারেন।
শীতকালে অ্যাজমার প্রকোপ বাড়ে। এর কারণ ঠান্ডা বাতাস, তাপমাত্রার হঠাৎ ওঠানামা, কুয়াশা, শুষ্ক বাতাস, ধুলাবালি, ফুলের পরাগ, বদ্ধ পরিবেশ, বায়ুদূষণ এবং ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, বিশেষ করে সর্দি-কাশি ও ফ্লু। এতে শ্বাসনালির সংবেদনশীলতা বাড়ে এবং হাঁপানির উপসর্গ তীব্র হয়ে ওঠে। তাই সতর্কতা জরুরি। বাইে গেলে নাক ও মুখ স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে রাখা বা মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। কুয়াশাচ্ছন্ন ও অতিরিক্ত ঠান্ডায় যতটা সম্ভব বাইরে না যাওয়া ভালো। গেলে অবশ্যই আরামদায়ক শীতবস্ত্র পরিধান করা আবশ্যক।
বাসাবাড়িতেও কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মশার কয়েল ব্যবহার না করে মশারির নিচে ঘুমানোর অভ্যাস করা উচিত। কারণ কয়েলের ধোঁয়া হাঁপানির প্রকোপ বাড়াতে পারে। শোবার ঘরে অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র বা মালামাল না রেখে ধুলাবালি জমতে না দেওয়া জরুরি। ঘরের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ না রেখে দিনে অন্তত কিছু সময় খুলে আলো ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়মিত ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও ধুলামুক্ত রাখা প্রয়োজন। পশমজাত কম্বল পরিহার করে তুলার লেপ বা হালকা কম্বল ব্যবহার করা ভালো। ঘরে কার্পেট থাকলে নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। সম্ভব না হলে কার্পেট সরিয়ে ফেলাই উত্তম। বালিশ, লেপ ও তোশক জিপারযুক্ত কভার দিয়ে ঢেকে রাখা উচিত। বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও লেপের কভার সপ্তাহে অন্তত একদিন গরম পানিতে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। বাসার পর্দাগুলোও নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার। কুকুর, বিড়ালসহ গৃহপালিত প্রাণী থেকে অনেকের অ্যালার্জি হতে পারে। তাই হাঁপানি রোগীর ক্ষেত্রে এগুলো বাসায় না রাখা ভালো। তেলাপোকা ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ নির্মূলে নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে গরম পানি। কারণ এতে শ্লেষ্মা পাতলা থাকে এবং শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।
শীতকালে সক্রিয় থাকা জরুরি। দিনের উষ্ণতম সময়ে হালকা ব্যায়াম করলে শ্বাসযন্ত্রের কার্যকারিতা ভালো থাকে। আইসক্রিম, ঠান্ডা পানি বা ফ্রিজে রাখা খাবার পরিহার করা উচিত। কারণ এগুলো শ্বাসনালির প্রদাহ বাড়াতে পারে। যেসব খাবারে ব্যক্তিগত অ্যালার্জি রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। মানসিক চাপ কম রাখা, নিয়মিত ঘুম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিছু ব্যথানাশক ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ হাঁপানির উপসর্গ বাড়াতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.