অনলাইন ডেক্স:
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকৃতিগতভাবেই শিশুরা চঞ্চল, কৌতূহলী ও খেলাধুলাপ্রিয়। দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা, রাস্তায় চলাফেরা কিংবা একা চলার সময় প্রায়ই তারা পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পায়। এ ধরনের আঘাত অনেক সময় তেমন গুরুতর মনে না হলেও এটি একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। মাথায় আঘাতের ফলে তাৎক্ষণিক বিপদ ছাড়াও হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা, এমনকি মৃত্যুও। তাই অভিভাবকের উচিত, এ বিষয়ে সচেতন থাকা এবং মাথায় আঘাতের সম্ভাব্য কারণ, লক্ষণ ও করণীয় সম্পর্কে জানা।
শিশুর মাথায় আঘাত সব সময় একইরকম হয় না। এটি হালকা চোট থেকে শুরু করে কনকাশন, খুলির হাড়ে ফাটল বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ পর্যন্ত হতে পারে। মৃদু আঘাতে শিশুর মাথায় সামান্য ফুলে যাওয়া, চামড়ায় কাটাছেড়া বা হালকা ব্যথা থাকতে পারে, এবং সাধারণত শিশুর চেতনা ঠিক থাকে। তবে মাঝারি থেকে গুরুতর আঘাতে একাধিকবার বমি, মাথা ব্যথা, ঝিমুনি ভাব, চোখের পাতা অসমান হওয়া, খিঁচুনি, কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের কোনো অংশে দুর্বলতা কিংবা দীর্ঘ সময় অচেতন থাকার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুর মস্তিষ্ক অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং তাদের খুলির হাড় পূর্ণভাবে শক্ত না হওয়ায় সহজেই আঘাতপ্রবণ হয়। গুরুতর আঘাত শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এর ফলে হতে পারে স্মৃতিভ্রষ্টতা, বুদ্ধিমত্তা হ্রাস বা মানসিক সমস্যা। অতিরিক্ত তীব্র আঘাত মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। যেমন- একাধিকবার বমি হওয়া, চেতনা হারানো বা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, কান, নাক বা মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়া, খিঁচুনি, দৃষ্টিবিভ্রাট, তীব্র মাথাব্যথা, খুলির হাড়ে ফাটল, কোনো অঙ্গ নাড়াতে না পারা, কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যাÍএইসবই বিপদের ইঙ্গিত বহন করে।
অনেক সময় বাইরে থেকে শিশুটিকে সুস্থ দেখালেও, অভ্যন্তরীণ আঘাতের কারণে পরে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই আঘাতের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যথা বা ফোলা থাকলে বরফ ব্যবহার করা যেতে পারে, প্রয়োজনে প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে। বমি হলে উপযুক্ত ওষুধ দেওয়া যায়, আর রক্তপাত হলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চেপে ধরা উচিত। তবে যদি বিপদের কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
এ ধরনের আঘাত প্রতিরোধে কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া যায়। যেমন- বাড়ি বা স্কুলে খেলাধুলার জায়গা নিরাপদ রাখা, সাইকেল বা স্কেটিংয়ের সময় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা, ছোট শিশুদের সবসময় নজরদারিতে রাখা, গাড়িতে ভ্রমণের সময় সিটবেল্ট ব্যবহার, এবং শিশুদের ট্রাফিক আইন ও নিরাপদ খেলাধুলার নিয়ম শেখানো। পাশাপাশি, স্কুল ও খেলাধুলার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আঘাত শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ থাকা উচিত।
সবশেষে বলা যায়, শিশুর মাথায় আঘাত কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি অবহেলা করার মতো নয়। সচেতনতা, প্রতিরোধ এবং সময়মতো চিকিৎসাই পারে শিশুর জীবন বাঁচাতে এবং ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে।

