মাহে রমজান শেষে গত শনিবার (২১ মার্চ) পালিত হয়েছে ঈদুল ফিতর। এখন চলছে শাওয়াল মাস। এ মাসের বিশেষ কিছু আমল রয়েছে-এর মধ্যে অন্যতম হলো ছয়টি নফল রোজা। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই রোজাগুলো রাখলে মিলবে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব।
নবী করিম (সা.) নিজে এই রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদেরও নির্দেশ দিতেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে রমজানের রোজা পূর্ণ করে, অতঃপর শাওয়ালের ছয় রোজা রাখে-সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৬৪৮)
নবীজি (সা.) আরও বলেন, যে রমজানের রোজা শেষ করে ছয় দিন রোজা রাখবে, সেটা তার জন্য পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য। (মুসনাদে আহমদ: ২৮০)
উবাইদুল্লাহ (রা.) বলেন, একদিন রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ, আমি কি সারা বছর রোজা রাখতে পারব? তখন তিনি বললেন, তোমার ওপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে, তাই তুমি সারা বছর রোজা না রেখে রমজানের রোজা রাখো এবং রমজানের পরবর্তী মাস শাওয়ালের ছয় রোজা রাখো, তাহলেই সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে।’ (সুনানে তিরমিজি: ১৫৩৪)।
কেউ যদি পুরো রমজানে রোজা রেখে তারপর শাওয়ালের এই ছয় রোজা রাখে, তবেই পূর্ণ এক বছর নফল রোজা রাখার সওয়াব লাভ হবে। আলাদাভাবে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজায় কিংবা পুরো রমজানের রোজায় এক বছর নফল রোজার সওয়াব দেওয়া হবে না।
কবে থেকে শুরু করবেন?
ঈদুল ফিতরের পরের দিন থেকে রোজা রাখা শুরু করবেন। এটাই উত্তম। তবে বাধ্যবাধকতা নেই।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে আছে রাসূল সা. বলেছেন, ঈদুল ফিতরের পর ধারাবাহিকভাবে যে ব্যক্তি ছয়টি রোজা রাখল সে যেন বছরজুড়ে রোজা রাখল। (আল মুজামুল কাবির: ৭৬০৭)।
শাওয়ালের রোজা কি ধারাবাহিক রাখতে হয়?
ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, শাওয়াল মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের দিনটি বাদ দিয়ে মাসের যেকোনো ছয় দিনে রোজা রাখলেই উল্লিখিত সওয়াব লাভ করা যাবে। লাগাতার ছয় দিন রোজা রাখা যাবে। আবার মাঝে বিরতি দিয়েও রাখা যাবে।
রমজানের কাযা রোজা থাকলে কী করবেন?
প্রথমে রমজানের কাযা রোজা আদায় করবে। কারণ তা ফরজ। আর শাওয়ালের রোজাসুন্নত। এ বিষয়ে দুর্বল সূত্রে একটি মাওকুফ হাদীস পাওয়া যায়।
উম্মু সালামার (রা.) পরিবারের কোনো সদস্যের রমজানের রোজা কাযা হয়ে গেলে তিনি ঈদুল ফিতরের পরের দিনই তা রাখতে নির্দেশ দিতেন। (ইবনু যানজুয়ার সূত্রে কানযুল উম্মাল-২৪৩১৮)।
ইবনু রজব হানবলি (রহ.) বলেন, আগে রমজানের কাযা রোজা আদায় করে ফেললে তার দায়িত্ব থেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে গেল। আর শাওয়ালের ছয় রোজার চেয়ে কাযা রোজা দ্রুত আদায় করা উত্তম। (লাতাইফুল মাআরিফ: ২২৩)।
তবে কেউ কাযা রোজা না রেখে শাওয়ালের রোজা রেখে ফেললে আদায় হয়ে যাবে।

