আসাদুজ্জামান বাবুলঃ
২৯ অক্টোবর ২০২৪
জুলাই অভ্যূর্তানের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন হলেও প্রশাসনে ঘাবটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের পতন এখনও হয়নি।
দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর ছাত্রজনতার সংগ্রামের মাধ্যমে ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদি সরকারের পতন হয়েছে। তারা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছেন। তার এই পালিয়ে চলে যাওয়াটা নিঃসন্দেহে আমাদের কাছে বড় বিজয়। এ বিজয়কে নৎসাত করার জন্য নানামুখী চক্রন্ত চলছে।
ফ্যাসিবাদী সরকারের হয়ে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলো তাদের দ্রুত অপসারণ করে সৎ পদঞ্চিতদের দায়িত্বে নিয়ে আসতে অন্তবর্তিকালীন সরকারকে বার বার আহবান জানিয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সেই আহবান সারা না দিয়ে উল্টো ফ্যাসিবাদি আওয়ামী সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে ছিলেন যেসব কর্মকর্তা তাদের কে সচিবায়লের ভিতরে ফিরিয়ে এনে অন্তবর্তীকালিন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ করে দেওয়া চক্রন্ত করা হচ্ছে কারস্বার্থে, সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনতার মূখে মূখে।
২৮ অক্টোবর ২০২৪ইং তারিখের একটি প্রজ্ঞাপনে চোখ আটকে যায়, সেখানে দেখা যাচ্ছে, ঢাকার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মমিনুর রহমান (১৫২০২) কে যুগ্মসচিব পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। এই কর্মকর্তা নিশ্চয় যাদু জানেন, তা না হলে কিভাবে এটা সম্ভব, আওয়ামী ফ্যাসাবাদী সরকারের সময় দাপুটে এবং সুবিধা ভোগীয় এই কর্মকর্তা , চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসক থাকা অবস্থায়, নিজ কার্য্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে আবারও ক্ষমতায় আসেন, সেই জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে মোনাজাত করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান যা তৎকালিন সময়ে দৈনিক প্রথম আলোসহ সকল জাতীয় পত্রিকায় ছবিসহ ছাপা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি কামাই করে সম্পদে পাহাড় গড়ার অভিযোগ রয়েছে চট্রগ্রামে তার বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়, চট্রগ্রাম বিজয়ের উপহার স্বরুপ, পরাক্রমশালী করিৎকর্মা এই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য খোদ রাজধানীসহ ঢাকা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে মোহাম্মদ মমিনুর রহমান হয়ে যান ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি)। কৃত্বিত্বের সাথেই ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে চার-ছয় হাঁকিয়ে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনার দায়ীত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য যে, মোহাম্মদ মমিনুর রহমান ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর ১৮৫তম জেলা প্রশাসক হিসেবে ঢাকা জেলায় যোগদান করেন। ইতোপূর্বে তিনি চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ঢাকা মহানগরে ঘটে যাওয়া সিদ্দিকবাজার বিস্ফোরণ, বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ড ও নিউমার্কেট অগ্নিকাণ্ডে সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করে সার্বিক ব্যবস্থাপনাসহ ক্ষতিগ্রস্তদের বিপুল আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ তার অধীনস্থ অন্যান্য অফিস আধুনিকায়ন, জেলা প্রশাসনের শূন্য পদে নিয়োগ প্রদান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্য প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নানাবিধও প্রকল্প ও
ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা খাতেও ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।

সরকারি সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখলে থাকা খাস জমি এবং অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে উদ্ধারকৃত এ সব সম্পত্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণে তিনি অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি তিনি নিজের ভাগ্যের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে যা দুদক কর্তৃক তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল।
কথিত আছে তিনি তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার আগেই যেহেতু বিদায় নিতে হয়েছে সেহেতু তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য নিজে অনেক টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে ভাগিনা তানভীর আহমেদ কে ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করিয়েছেন বলে নির্ভরশীল সূত্রে নিশ্চত করেছে।
দেশের শতকরা প্রায় ৯৫ শতাংশ সরকারি, আধাসরকারি এবং স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে শেখ হাসিনার লোটাবাহিনী এখনও পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দখলে রেখেছেন। ফলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। সরকারি কর্মকান্ডে স্থবিরতা বিরাজ করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত তাদেরকে চিহ্নিত করে

, অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা।বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদায়ন বন্ধ করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তা না হলে অন্তর্বতিকালিন সরকারকে অনেক বড় বিপদের সমূখীন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মোহল মনে করেন। এই অন্তর্বতিকালিন সরকারের কাছে দেশের জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী, কারণ এই ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের পতনের পরে দেশের মানুষ চায় এমন একটা নির্বাচন নির্বাচন হবে যেখানে নিরভয়ে ভোট দিতে পারবে এবং সেই ভোট হবে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরোপেক্ষ। আর নির্বাচিত সরকারের মধ্যমেই দেশের পথিৎ সরকারের মাধ্যমেই সকল ঝঞ্জাল পরিষ্কার হবে বলে অভিজ্ঞ মোহলের অভিমত। তিনি নিজের ভাগিনী জামাই কেউও ফরিদপুর এর জেলা প্রশাসক বানিয়েছেন। কামরুল আহসান হলো ঢাকার জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ এর আপন বোনের জামাই।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.