ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় যুবদল নেতার পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, সাধারণ মানুষের জমি দখলের চেষ্টা এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ইদ্রিস তালুকদার (ওরফে মিরাজ) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম পুটিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা এবং আইউব আলী তালুকদারের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইদ্রিস ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে আত্মীয়স্বজন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি এবং দখলের অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের পরিবার এলাকায় ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অতীতে গ্রামে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর ইদ্রিস এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি নিজের পরিচয় পরিবর্তন করে ‘মিরাজ’ নাম ব্যবহার শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন সময় তিনি নিজেকে কখনো আইনজীবী, কখনো সাব-রেজিস্ট্রার, আবার কখনো সরকারের উপসচিব পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি কর্মকর্তা ও আইনজীবীর পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং একাধিক মানুষ তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরেও আসেন ইদ্রিস। প্রতারণা এবং ভুয়া আইনজিবী সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক করা হয় ইদ্রিস ওরফে (মিরাজ) কে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, ইদ্রিসের বাবা ও ভাইয়েরাও দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধে জড়িয়ে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অন্যের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি, মামলা-মোকদ্দমা করা এবং বিভিন্ন কৌশলে জমির মালিকদের চাপে রাখার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তারা এলাকায় ‘মামলাবাজ’ ও ‘দখলবাজ’ পরিবার হিসেবেও পরিচিত।
গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিবারটি সাধারণ মানুষকে নানা উপায়ে হয়রানি করেছে। এমনকি কোনো বৈধ মালিকানা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই অন্যের জমির ওপর দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। এ নিয়ে এলাকায় একাধিক বিরোধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তারা।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইদ্রিস ওরফে মিরাজ নিজেকে রাজাপুর উপজেলা যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে পক্ষভুক্ত হয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন এবং কয়েকটি স্থানে জমি দখলের অপতৎপরতায় জড়িয়েছেন।
রাজাপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ পারভেজ বলেন, “ইদ্রিস নামে ওই ব্যক্তিকে চিনেন না এবং যুবদলের কোনো পর্যায়ের নেতা বা কর্মী নন। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে কিংবা দখলবাজি, প্রতারণা বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাকে আমরা সমর্থন করব।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইদ্রিস তালুকদার ওরফে মিরাজের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে এলাকাবাসী ইদ্রিস ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.