ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান পনিরের ও মনির মোল্লার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একাংশ বলছেন,তাদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গালুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসাদুজ্জামান পনির ও মনির মোল্লা বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের সাথে আতাত করে চলতো। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গালুয়া ইউনিয়নে প্রভাব বাড়াতে শুরু করেন উপজেলা তারা। যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান পনির ও মনির মোল্লোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি দেখানো এবং হামলা-মামলার হুমকি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন একাধিক ব্যক্তি।এছাড়াও মাদক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তার নিজস্ব বাহীনি।
বিভিন্ন মাধ্যমে যানা যায়, মনির মোল্লা ডাকাতি মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী বর্তমান জামিনে রয়েছে। এছাড়াও পাস্ববর্তী উপজেলা ভান্ডারিয়া থানাও রয়েছে তার নাম মামলা। তিনি মাদক ব্যাবসা নিয়ন্ত্রণ,সালিশ বিচারের নামে অর্থ আদায়, স্থানীয়ভাবে নিরব চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন।
গালুয়া ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পনির এবং মনির মোল্লার কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারা বলেন, “তার কারণে সাধারণ মানুষ সরাসরি কিছু বলতে সাহস পায় না। মানসম্মানের ভয়ে অনেকেই চুপ থাকেন।” এই দুজনই স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের ঘনিষ্ঠজন।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, এদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রভাব পড়েছে সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ইউনিয়নের নয়টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র দুটি কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী অল্প ব্যবধানে জয় পেলেও বাকি সাতটি কেন্দ্রে পরাজিত হন। নেতাকর্মীদের মতে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়াই এর অন্যতম কারণ।
এছাড়া উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা প্রতিদিন বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে নানা বিষয়ে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ, তহসিল অফিস, থানা ও স্থানীয় হাটবাজারসহ বিভিন্ন টেন্ডার কার্যক্রমেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন পনির ও মনির মোলো। এমনকি অর্থের বিনিময়ে স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশ পরিচালনার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
গালুয়া ইউনিয়নের বিএনপির কয়েকজন প্রবীণ কর্মী বলেন, এসব কারণে অনেক পুরোনো নেতাকর্মী দল থেকে দূরে সরে গেছেন। তারা মনে করেন, দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মনির মোল্লার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আর আসাদুজ্জামান পনিরের বক্তব্যের তার মুঠোফোনে রিং হলেও ধরেন নি।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুর হোসেন বির্তকিত এদের নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।আপরদিকে গালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মনিরুজ্জামান লাভলু বলেন তাদের বিতর্কিত অনেক কর্মকাণ্ড শুনেছি, তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

