ঢাকা৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রমজানের পর দল পুনর্গঠনে মনোযোগ দেবে বিএনপি

admin
মার্চ ২, ২০২৬ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক

০২ মার্চ ২০২৬

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ক্ষমতায় ফেরার পর দলটির সামনে এখন নতুন বাস্তবতা দলকে সক্রিয় ও সংগঠিত রাখা। সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ মন্ত্রিসভা ও সংসদীয় দায়িত্বে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি কমেছে বলে দলীয় পর্যবেক্ষণ। দলীয় কার্যালয়ে আগের মতো ভিড় নেই, রাজপথেও কর্মসূচির তৎপরতা কমেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ঈদুল ফিতরের পরপরই ব্যাপক পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বিভাজনের চিত্র পর্যালোচনা করবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি গঠন, আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা এবং প্রয়োজন হলে বিদ্যমান নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হবে। বিশেষ করে যেসব সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এমপি, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানে পূর্ণকালীন সাংগঠনিক নেতৃত্ব আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সক্রিয়তা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ সরকারে থাকা মানেই সংগঠন শক্তিশালী- এমন ধারণা বাস্তবে টেকে না; বরং সংগঠন দুর্বল হলে সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তিও নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় সরকার ও দল- দুই ধারাকে আলাদা গতিতে কিন্তু সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার কৌশল নিয়েই ঈদের পর বিএনপির পুনর্গঠন অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আগামী কয়েক মাস রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের চ্যালেঞ্জ নেই। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলের তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ স্থানীয় নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ না থাকলে ফল সম্পূর্ণরূপে ঘরে আসবে না বলেও তাদের আশঙ্কা।

অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব সরকারে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠন থেকে বেশ কয়েকজন এবার এমপি-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। ফলে সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব সংগঠনের কাজে মনোযোগ দিতে পাচ্ছে না। যেসব সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব এমপি-প্রতিমন্ত্রী হয়ে গেছেন তাদের জায়গায় নতুন নেতৃত্ব আনারও চিন্তাভাবনা করছে দলটি।

বিএনপি নেতাদের দাবি, একই নেতৃত্ব সংগঠন ও সরকারে থাকার কারণে সাংগঠনিক দুর্বলতা ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে। কারণ দলের প্রতি নিবেদিত হলেও সরকারে মনোযোগ দিতে গিয়ে সংগঠনে সময় দিতে পারছেন না।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান আমাদের সময়কে বলেন, দল ও সরকার আলাদা করা উচিত। সরকারে থাকা ব্যক্তিরা অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। ফলে সংগঠনের গতি ফিরাতে সরকারের বাইরের নেতৃত্ব দায়িত্ব পালন করবে।

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরে এই নেতা আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট দেখতে পেয়েছি, আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আন্দোলন সংগ্রামে তাদের প্রশাসনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। যার জন্য প্রশাসনও দলীয়করণ করতে হয়। কিন্তু সেই প্রশাসন গণ-অভ্যুত্থান থেকে তাদের রক্ষা করতে পারেনি। সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতার চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দল ও সরকার আলাদা রাখাকে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, খুব শিগগিরই দলের পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়েছে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। সেই অধিবেশনে করণীয় নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতারা। এরপরই দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী দৃশ্যমান উদ্যোগ নেবেন।

তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা বলছেন, মূল দল ও সংগঠনের নেতারা এমপি-মন্ত্রী হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে ছন্দপতন ঘটেছে। এখনই সংগঠন নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। কারণ একসঙ্গে দল এবং সরকারের দায়িত্ব পালন করা কঠিন। বিশেষ করে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে গতিশীল রাখতে সার্বক্ষণিক নেতৃত্ব দরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপির সংগঠনগুলোর বেশ কয়েকটি কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব সংগঠনের কেউ কারও নেতৃত্ব মানছেন না। মতবিরোধ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাই শিগগিরই নতুন কমিটি গঠনের দাবিও তুলছেন পদপ্রত্যাশীরা। বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন করতে বিএনপির হাইকমান্ড উদ্যোগ নিচ্ছে- এমন খবর জানার পর সংগঠনের পদপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন মাধ্যমে দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, লবিং ও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে জেলায় জেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও সামনে আসে। কিন্তু বিএনপির নেতারা একে কোন্দল না বলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা বলে দাবি করেন। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালামের ভাষ্য, বড় দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকে; একে কোন্দল বলা যাবে না।

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপির অঙ্গ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, ছাত্রদল ও মহিলা দলে নেতৃত্বে পরিবর্তন নিয়ে আসা জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই অঙ্গসংগঠনগুলোয় সাংগঠনিক স্থবিরতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন (এমপি), স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী (এমপি), সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান (প্রতিমন্ত্রী), কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেছেন। তিনি পরাজিত হলেও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারি কাজের ব্যস্ততার কারণে এখন তারা সংগঠনের কার্যক্রমে সময় দিতে পারছেন না। তাদের অনুপস্থিতিতে নেতাকর্মীরা সংগঠনমুখীও হচ্ছেন না। সবাই এখন সরকারমুখী। অনেকেই সচিবালয় ও মন্ত্রীদের বাসায় বাসায় শুভেচ্ছা জানাতেই ব্যস্ত। এসব কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মী রাজপথে আন্দোলন ও সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগীদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের কথা বলছেন।

২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দেড় বছরের অধিক সময় পার হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি। ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়েই কেন্দ্রীয় যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে।

২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এসএম জিলানীকে সভাপতি ও রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি এবং শহিদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অনেক ব্যক্তিকে পদ দেওয়া হয়েছে, যাদের একটি বৃহত্তর অংশ বিদেশে অবস্থান করছেন।

২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দিন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের গঠিত কমিটির মেয়াদ গতকাল রবিবার ১ মার্চ মার্চ শেষ হয়।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন; এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। ফলে তিনি যখন চাইবেন তখনই ছাত্রদলের নতুন কমিটি করার প্রস্তুতি আছে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশে পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু হয়েছে। আমরা সব সময় নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজনীতি করে এসেছি, প্রত্যাশা ভবিষ্যতেও ছাত্রদল ইতিবাচক রাজনীতি করবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।