সত্য সমাচার ডেক্স:
৭ নভেম্বর ২০২৪
মেঘনা গ্রুপের কোম্পানি ইউনিক সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এবং ভারতের আদিত্য বিড়লা চোখল ট্রেডিজ কম্পানি নিটিইর (সিঙ্গাপুরের রেজিস্টার্ড) কনসোর্টিয়ামকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন কয়লা বাড়তি দামে ক্রয়ের জন্য কার্যাদেশ প্রদান করার অভিযোগে আজ মানববন্ধন হয়েছে!
মানব বন্ধনে বক্তারা বলেন
এই প্রতিষ্ঠানকে বাজারমূল্যের চেয়ে বাড়তি দামে কয়লা ক্রয়ের কার্যাদেশ দেওয়ায় এক বছরে সরকারের ৯১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ক্ষতি হবে! এর দায় কোল পাওয়ার জেনারেশনের এমডি নাজমুল হকের।
এ কারণে মেঘনা গ্রুপ এবং ভারতীয় কোম্পানীর সাথে অসম চুক্তি বাতিল এবং কোল পাওয়ারের এমডির পদত্যাগের দাবিতে আজ বৈষম্য বিরোধি ছাত্র-জনতা ব্যানারে মানববন্ধন করে!
জানা যায়,
কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী (সিপিজিসিবিএল) কক্সবাজারের মাতারবাড়ির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা ক্রয়ের লক্ষে দরপত্র দলিলসমূহ মূল্যায়নের জন্য কোল পাওয়ারের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জনাব মোঃ নাজমুল হককে আহবায়ক করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি মেঘনা গ্রুপ ও আদিতা বিড়লা এর প্রস্তাবিত দর মূল্যায়ন করে যা বর্তমান বাজার দর হতে অনেক বেশি বলে উক্ত প্রস্তাবিত দর গ্রহণযোগ্য নয় বলে বোর্ডের নিকট সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে মূল্যায়ন কমিটিকে ফ্যাসিবাদী সরকারের বোর্ড কর্তৃক দর্পণ মূল্যায়ন করতে বলা হলে কমিটি একই রিপোর্ট সুপারিশ করেন।
পরবর্তীতে সরকারের প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হলে তড়িঘড়ি করে পূর্বের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে বাদ দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও বোর্ড পরিচালক বৃন্দ বিদ্যুৎ উনয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার প্ল্যান্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব খোরশেদ আলম, ব্যারিস্টার মইন গনি ও জনাবা মনোয়ারা হাকিম আলীর সুপারিশের প্রেক্ষিতে নাজমুল হককে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়, শুধুমাত্র কয়লা একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিকে দেওয়ার জন্য। নাজমুল হককে বলা হয় পরবর্তীতে উনাকে স্হায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক করে দেওয়া হবে। বোর্ড মিটিংয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের সার্কুলার দেওয়ার কথা থাকলেও অদ্যবধি কোন সার্কুলার দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব নাজমুল হক পরিচালক ফ্যাসিবাদ সরকারের পূর্বের বোর্ড মেম্বারদেরকে খুশি করার জন্য প্রায় কোটি কোটি টাকা বেশি দিয়ে আদিত্য বিল্লার সাথে কূল পাওয়ার এর সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের অগোচরে চুক্তি সম্পাদন করে।
এতে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করে ফ্যাসিবাস সরকারের দোসর ডিজিএমএইচ আর জনাব নীতিশ দত্ত, ডি জি এম ফিন্যান্স জনাব ফজলুল করিম, কোল পাওয়ারের কোম্পানি সচিব জনাব মেরাজ গং। আর এই কাজে প্রচুর অর্থ অবৈধভাবে গ্রহণ করে ভাগ বাটোয়ারা করে নেন নিজেদের মধ্যে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন!
একাত্তর টিভির মোজাম্মেল বাবু এই অসম চুক্তির নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেন।
বক্তারা আরও বলেন,
বিগত সরকারের দোসররা পরিকল্পিতভাবে সরকারের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করেছে। অবিলম্বে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কোম্পানী মেঘনার সাথে কয়লার টেন্ডারচুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। কোল পাওয়ার জেনারেশনের এমডির অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। চুক্তি বাতিল এবং এমডির পদত্যাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
আগামী সোমবারের মধ্যে মেঘনা গ্রুপের সাথে সম্পাদিত দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করতে হবে। কোল পাওয়ারের এমডিকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। তা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। লাগাতার কর্মসুচি ঘোষণা করা হবে বলে ঘোষণা দেন বক্তারা!

