মেহেদী হাসান হিমেলের. ঢাকা: স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গিয়ে ‘হয়রানি, দুর্ব্যবহার ও পরবর্তীতে অপপ্রচারের’ শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও, ফটোকার্ড ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি করেন।
হিমেলের বক্তব্য অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুর রহমান নিক্সনের স্ত্রী গুরুতর গাইনি-সংক্রান্ত জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চিকিৎসা ও ওয়ার্ডে ভর্তির জন্য অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে রোগীকে জরুরি বিভাগের মেঝেতে রাখা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের বারবার অনুরোধের পরও ওয়ার্ডে স্থানান্তর করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এ সময় রোগীর স্বজনরা চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েন।
স্ট্যাটাসে হিমেল বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি রাত ১টার দিকে হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসক ও হাসপাতালের দায়িত্বশীলদের একটি অংশ তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং পরিস্থিতি সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।
হিমেলের ভাষ্য, একপর্যায়ে তিনি হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নম্বর চাইলে তা না দিয়ে উল্টো তাকে কটাক্ষ করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টির প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও একটি পক্ষ সংঘবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করে। পরবর্তীতে হলের কিছু শিক্ষার্থীকে ঘটনাস্থলে আনার মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও প্রসঙ্গে হিমেল বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কোনো হামলা, ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলার নয়; বরং সেটি অসুস্থ রোগীর স্বজনের অসহায় আর্তনাদের দৃশ্য। ঘটনাটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি আরও দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য, বিভ্রান্তিকর বর্ণনা এবং ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ‘গুপ্ত শিবিরের’ কর্মীরা ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিনের বন্ধু ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধার বিপদের সময় পাশে দাঁড়াতে গিয়ে যদি আমাকে মবের শিকার হতে হয়, তবুও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজ থেকে আমি সরে আসব না।”
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.