ষ্টাফ রিপোর্টার
২৯ ডিসেম্বর ২০২৪
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশিকায় ‘ট্রান্সজেন্ডার’ প্রবেশের প্রতিবাদ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’। আজ ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪, রোজ- রবিবার রাজধানীর বকশিবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এক সমাবেশে তারা এই প্রতিবাদ জানায়। সমাবেশে তারা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহ আলমগীরের পদত্যাগও দাবী করেন।
সমাবেশে 'স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি'র আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক বলেন, গত ২৩শে অক্টোবর, ২০২৪ ইং তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহ আলমগীর স্বাক্ষরিত ‘নাম ও বয়স সংশোধন নির্দেশিকা-২০২৪ এর ৩(২) ধারায় “লিঙ্গ পরিবর্তনকৃত শিক্ষার্থীর নিজ নাম পরিবর্তন করা যাবে” অংশ সংযুক্ত করে মাদ্রাসায় ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামীতাকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। জিয়াউল হক বলেন, প্রত্যেকটি শিশু জন্মের সময় ছেলে অথবা মেয়ে হয়েই জন্ম নেয়। তাই পরবর্তিতে লিঙ্গ পরিবর্তনের আর কোন সুযোগ নেই। তবে সমকামী গোষ্ঠী লিঙ্গ পরিবর্তন নাম দিয়ে ট্রান্সজেন্ডার রূপ ধারণ করে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশিকায় ‘লিঙ্গ পরিবর্তন’ শব্দদ্বয় সংযুক্ত করে সেই ট্রান্সজেন্ডার নামধারী সমকামীদের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
মুহম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ট্রান্সজেন্ডার, সমকামীতা বা লিঙ্গ পরিবর্তনের মত বিষয়গুলো হচ্ছে পশ্চিমা সম্রাজ্যবাদীদের অপসংস্কৃতি, যার মাধ্যমে তারা অন্য জাতির সাংস্কৃতিক ভিত্তি ধ্বংস করে, নিজ আধিপত্য ও আগ্রাসন প্রতিষ্ঠা করে। জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশে সেই অপসংস্কৃতির আমদানি দেশের জনগণের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহ আলমগীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মনস্তত্বে সেই অপসংস্কৃতির বীজ বপণ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
মুহম্মদ জিয়াউল হক বলেন, জনগণের তীব্র প্রতিবাদের কারণে গত সরকারও পাঠ্যবইয়ে ট্রান্সজেন্ডার শরীফার গল্প রাখতে পারেনি, বাদ দিতে বাধ্য হয়েছিলো। কিন্তু গত সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রফেসর শাহ আলমগীর ‘লিঙ্গ পরিবর্তন’ এর নামে সেই নিষিদ্ধ ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামীতাকে ফিরিয়ে এনেছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে নির্দেশিকার ঐ বিতর্কিত অংশটি বাদ দিতে হবে এবং প্রফেসর শাহ আলমগীরকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বহিষ্কার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রফেসর শাহ আলমগীর শিক্ষক নামে কলঙ্ক। সে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মত একটি পবিত্র স্থানে সমকামীতার মত নিকৃষ্ট পাপকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমদানি করেছে।
'স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি'র নেতৃবৃন্দ বলেন, কোন শিশু জন্মের সময় লিঙ্গ প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিতে পারে। সেক্ষেত্রে শিশুর প্রজনন অঙ্গের স্থানটি অস্পষ্ট হয়। সেক্ষেত্রে অভিভাবক শিশুটির লিঙ্গ নির্ধারণেও ভুল করতে পারেন। তবে শিশুটি বয়ঃসন্ধিকালে উপনিত হলে শিশুটি ছেলে না মেয়ে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে কেউ কেউ মনে করতে পারেন, শিশুটির হয়ত লিঙ্গ পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে লিঙ্গ পরিবর্তন একটি অবৈজ্ঞানিক ও অবাস্তব ধারণা, যা কখন সম্ভব নয়। এজন্য কোন শিশু অস্পষ্ট জননাঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করলে দ্রুত চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হয়ে শিশুর প্রকৃত লিঙ্গ নির্ধারণ করা জরুরী। বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। শিশুর জননাঙ্গ বেশি অস্পষ্ট হলেও আলট্রাসাউন্ড পদ্ধতি বা ক্যারিওটাইপের মাধ্যমে খুব সহজেই শিশুর প্রকৃত লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব। আর লিঙ্গ প্রতিবন্ধী শিশুকে যত দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেয়া যাবে, তত দ্রুত তাকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব। এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরীর প্রয়োজন। কিন্তু অসুস্থ শিশুর সুস্থতার দিকে দৃষ্টি না দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘লিঙ্গ পরিবর্তন’র সুযোগ রাখলে একদিকে যেমন শিশুকে পরিচয়হীনতার অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়া হয়, অন্যদিকে সমকামী বা ট্রান্সজেন্ডারদের সুযোগ করে দেয়া হয় তাদের নিষিদ্ধ কর্ম চালিয়ে সমাজে অরাজকতা ও অস্থিরতা তৈরীর জন্য। তাই শিক্ষাবোর্ডের নিদের্শিকায় কোনভাবেই ‘লিঙ্গ পরিবর্তন’ এর অপশন রাখার সুযোগ নেই।
সমাবেশে 'স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি'র শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাদের বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- “মাদ্রাসায় সমকামীতা প্রবেশ করানো চেয়ারম্যান শাহ আলমগীরের পদত্যাগ চাই”, “মাদ্রাসা বোর্ডের নির্দেশিকায় লিঙ্গ পরিবর্তনের বৈধতা, শরীফ পেলো শরীফার হওয়ার সুযোগ”, “জেন্ডার ডিসফোরিয়া রোগীদের স্বীকৃতি নয়, চিকিৎসা দিন”, “সমকামীরা লিঙ্গ পরিবর্তনের নামে ট্রান্ডজেন্ডার বেশ ধারণ করে”, ট্রান্সেজেন্ডার-লিঙ্গ পরিবর্তন-সমকামীতা-শাস্তিযোগ্য অপরাধ ৩৭৭ ধারা”, “শিক্ষা কারিকুলামে এনজিও ফান্ডিং বন্ধ করো”, “লিঙ্গ পরিবর্তনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করতে হবে”, “No place for gay rights” ইত্যাদি।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.