সত্য সমাচার ডেস্ক:
১০ অক্টোবর ২০২৬
চণ্ডীপাঠ, মঙ্গলঘট স্থাপন এবং ঢাক-কাঁসা ও শঙ্খের ধ্বনিতে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আসার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে দেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র মহালয়া। এর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটলো পিতৃপক্ষের এবং সূচনা হলো দেবীপক্ষের। একই সঙ্গে শুরু হয়ে গেল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা।
মহালয়া উপলক্ষে শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেবীপক্ষের এই সূচনালগ্নের অনুষ্ঠানে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
আজ ভোর ৬টা থেকে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে মহালয়ার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে তিল-তর্পণ এবং সকাল ৯টায় বিশেষ প্রার্থনা ও মহালয়ার ঘট স্থাপন করা হয়।
আজ মহালয়া হলেও দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ৫ দিনব্যাপী এই উৎসব শেষ হবে।
পুরাণে বলা হয়েছে, মহালয়ার দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান এবং মর্ত্যে তার আগমন ঘটে। শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং গমন হবে নৌকায়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দুর্গোৎসব উপলক্ষে এবার সরকারের পক্ষ থেকে মণ্ডপগুলোতে ৫ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে পূজার ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করা হয়েছে। ফলে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এই আনন্দ উৎসব। আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মিলনমেলার বার্তা নিয়ে এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.