
মাত্র ১১ দিনের ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে সিরিয়ায় ৫৩ বছরের আসাদ পরিবারের শাসনের অবসান হয়। পরিবার নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বাশার আল-আসাদ। বর্তমানে মস্কোয় তিনি নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। এদিকে সিরিয়ার স্থিতিশীলতা এখনও বেশ দূরে। দেশটিতে এখনও জাতিগত সংঘাত বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। নানা কারণে ন্যায় বিচারও ব্যাহত হচ্ছে।
সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ওঠে এসেছে আয়মান আলীর চোখে। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের পর আহত আলী সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। আলী ১৪ বছর থেকে স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছিলেন। বাশার ক্ষমতাচ্যুতির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা এসেছে কিন্তু ন্যায়বিচার এখনও অধরাই রয়ে গেছে। যুদ্ধের সময় দেশ ছাড়া আলী এখন দামেস্কে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন। কিন্তু নিরাপত্তার শঙ্কা তাঁকে তাড়া করছে।
সিরিয়ার ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ আহত হয়েছেন। আসাদের পতনের ফলে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। সেই সময় দামেস্কের উমাইয়া মসজিদে এক ভাষণে আহমেদ আল-শারা অঙ্গীকার করেছিলেনÑ ‘শক্তিশালী ও ন্যায়সঙ্গত সিরিয়া উপহার দেবেন’। গত সোমবার বাশার পতনের বার্ষিকীকে বহু মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের ভেতরে একটি বেদনাদায়ক প্রশ্ন ছিল। এ প্রসঙ্গে আলী বলেন, ‘আমরা জানি আমাদের ওপর কারা গণহত্যা চালিয়েছেÑ তারা এখনও আমাদের কাছেই আছে। কিন্তু অভিযোগ দায়ের করার উপায় নেই।’ গত অক্টোবরে শেষের দিকে হোমস প্রদেশে বাড়িতে গ্রেনেড ছুড়ে রিহাম হামুয়েহকে হত্যা করা হয়। তিনি ছিলেন আসাদের সেনাবাহিনীর সাবেক মেকানিক। হামুয়েহর শ্বশুর জানান, আমরা কেউ নিরাপদে নেই, আমরা সবাই ক্লান্ত। এই হত্যাকাণ্ড ছিল বাশারের আলাউইত সম্প্রদায়কে ধারাবাহিক হত্যার একটি। হোমস প্রদেশে প্রায়ই এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।
সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আল-শারা দেশকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু সিরিয়ার অভ্যন্তরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে যাঁরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া মন্থর বা কখনও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যা সহিংসতার নতুন চক্র তৈরি করছে।
একসময় আল-কায়েদার নেতা আল-শারা নিজের কূটনীতিক সক্ষমতা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের দৃশ্য বহু সিরীয়কে গর্বিত করেছে। টেলিভিশনে এই ভিডিও দেখে একজন আলাউইত কর্মীও বলেছেনÑ ‘যদিও আমরা তাঁকে (শারা) পছন্দ করি না তবু হোয়াইট হাউসে সিরিয়াকে দেখে ভালো লাগছে।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপে সবচেয়ে বড় বাস্তচ্যুত সংকট তৈরি করেছিল। এই পরিস্থিতি ইসলামিক স্টেট (আইএস) তৈরি হয়। এসব পিছনে ফেলে সিরিয়ার নতুন রাষ্ট্রপতির পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব। কিন্তু দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি নতুন করে সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে এবং দেশের বিভাজন আরও গভীর করছে।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.