সত্য সমাচার ডিজিটাল
৩০ নভেম্বর ২০২৫,
ছানায় শিশুর প্রস্রাব করা বা নকটার্নাল এনিউরেসিস একটি সাধারণ আচরণগত সমস্যা, যা অনেক মা-বাবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মূলত ঘুমের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিছানা ভিজিয়ে ফেলা- এটাই আমরা বিছানায় প্রস্রাব করা বলে জানি। যখন কোনো শিশু সপ্তাহে অন্তত দুবার এভাবে বিছানা ভেজায় এবং তা টানা তিন মাস বা তারও বেশি সময় ধরে চলে, তখনই আমরা বিষয়টি চিকিৎসাগত দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করি। পাঁচ বছরের নিচে শিশুর ক্ষেত্রে এটি খুব স্বাভাবিক। কারণ এই বয়সে তাদের মূত্রথলির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বিকশিত হয় না। সাধারণত পাঁচ বছর পার হওয়ার পর শিশুর মূত্রথলি নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই পাঁচ বছরের পরও যদি শিশু নিয়মিত বিছানায় প্রস্রাব করে ফেলে, তখন তা সমস্যাগ্রস্ত বলা যায়। শুধু শিশু নয়, কিশোর বা প্রাপ্তবয়স্কেরও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ রোগের বিস্তার নেহাত কম নয়। গবেষণায় দেখা যায়, সাত বছর বয়সী প্রতি ১০ শিশুর মধ্যে ৭ থেকে ১০ জনের মধ্যে এ সমস্যা দেখা যায়। এর মধ্যে বেশির ভাগই কেবল রাতে বিছানা ভেজায়, অল্প কিছু শিশু দিন ও রাতে অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব করে। ছেলেদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বিছানায় প্রস্রাব করার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। কারও ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মূত্রথলির স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ তৈরি হতে দেরি হয়। কারও মূত্রথলির আয়তন ছোট হওয়ায় সামান্য চাপেই প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে না। আবার হরমোনজনিত কারণে রাতে বেশি প্রস্রাব তৈরি হলেও এমনটি ঘটতে পারে। মূত্রনালির সংক্রমণ, প্রস্রাবের পথে বাধা, ঘুমের সমস্যা, বিশেষ করে এডেনয়েড বড় থাকলে বা ঘুমের মাঝে শ্বাস রোধ হলে শিশুর সময়মতো জেগে ওঠার ক্ষমতায় ব্যাঘাত ঘটে। অনেক শিশুই মানসিক চাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়াবেটিসের কারণে বিছানায় প্রস্রাব করে। পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও এ সমস্যা হতে পারে। পাঁচ বছরের পরও শিশুর বিছানা ভিজানোর প্রবণতা থাকলে চিকিৎসকরা প্রয়োজনে রক্তপরীক্ষা, মূত্রপরীক্ষা বা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করিয়ে থাকেন, যাতে সমস্যার মূল কারণ বের করা যায়।
চিকিৎসার শুরুটা হয় সাধারণত আচরণগত পরিবর্তন দিয়েই। শিশুকে হেয় করতে নয়, উৎসাহ দিতে হবে। রাতে বিছানা ভেজা বন্ধ করলে শিশুকে ছোটখাটো পুরস্কার দিন। উৎসাহ পাবে। সন্ধ্যার পর থেকে পানির পরিমাণ কমিয়ে আনা, দিনের বেলা পর্যাপ্ত পানি পান করানো, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে পানি না দেওয়া- এসব ছোটখাটো নিয়ম মানলে অনেক সময়ই সমস্যা কমে আসে। ঘুমানোর আগে শিশুকে অবশ্যই প্রস্রাব করাতে হবে। আর দরকার হলে রাতে নির্দিষ্ট সময়ে অ্যালার্ম দিয়ে তুলে আবার প্রস্রাব করানো যেতে পারে। এসবের পরও যদি সমস্যা থেকে যায়, তবে চিকিৎসক প্রয়োজনে কিছু ওষুধ দিতে পারেন। প্রস্রাবের সংক্রমণ থাকলে তা দূর করতে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে সেটির চিকিৎসা করা হয়, আর এডেনয়েড বা ঘুমের সমস্যার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হয়।
সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুকে কোনোভাবেই লজ্জা দেওয়া বা বকাঝকা করা যাবে না। বিছানায় প্রস্রাব করা শিশুর নিজের কাছেও অস্বস্তিকর। তাই তাকে সহযোগিতা করাটাই বাবা-মায়ের দায়িত্ব। যথাসময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে এবং নিয়মিত যত্ন নিলে বেশিরভাগ শিশুই খুব স্বাভাবিকভাবে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2025 sattyasamacher.com. All rights reserved.