১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪
ঢাকার বায়ুদূষণ ক্রমেই ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। বিশ্বের প্রধান প্রধান শহরের মধ্যে বায়ুদূষণের দিক থেকে প্রায়ই ঢাকা শীর্ষস্থানে উঠে আসে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, গত শুক্রবার সকালেও ঢাকার অবস্থান ছিল বিশ্বের সর্বাধিক দূষণকবলিত ১২৬টি শহরের মধ্যে শীর্ষস্থানে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৯টায় ঢাকার গড় বায়ুমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিআই) ছিল ২৬২।
গবেষণায় উঠে এসেছে, বায়ুদূষণ জনিত কারণে বাংলাদেশে বছরে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। অনেকে অসুস্থ হয়ে কর্মক্ষমতাহীন হয়ে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, বায়ুদূষণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বায়ুদূষণের কারণে দ্রুত বাড়ছে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ।
হাসপাতালগুলোতে অ্যাজমা, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য রোগে আক্রান্ত মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। বাড়ছে ক্যান্সার, হৃদরোগের মতো প্রাণঘাতী রোগও। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা বা দুর্বল স্বাস্থ্যের মানুষের। ফলে বায়ুদূষণ জনিত কারণে সৃষ্ট রোগব্যাধিতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।
নগরীর বায়ুদূষণ রোধে অবিলম্বে জরুরি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবিতে শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনসহ রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে পরিবেশবাদী একাধিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। সংগঠনগুলো দাবি করেছে, বায়ুদূষণ রোধ করার বিষয়টিকে এক নম্বর সমস্যা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে সরকারকে। এসব কর্মসূচিতে ব্যবহার করা প্ল্যাকার্ডের ভাষা ছিল এ রকম : ‘বাসযোগ্য ঢাকা চাই’, ‘বায়ুদূষণকারী প্রকল্প নয়’, ‘পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চাই’, ‘ধোঁয়ার বদলে সবুজ চাই’, ‘নির্মল বায়ু আইন পাস করো’, ‘আমাদের শ্বাস নিতে দাও’, ‘নির্মাণকাজে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করো’, ‘পরিষ্কার বাতাস ও সুস্থ জীবন চাই’ ইত্যাদি।
গণমাধ্যমের তথ্য মতে, ঢাকার বায়ুমানের অবনতি থামছে না। গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের নভেম্বরে বায়ুর মান ১০ শতাংশ পর্যন্ত খারাপ হয়েছে।
আর ডিসেম্বরে চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষিত ছিল ঢাকার বাতাস।
ঢাকার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দেশের অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতেও দূষণ পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় ছিল।
এরই মধ্যে ঢাকার দূষিত বায়ু থেকে বাঁচতে বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
বিশ্বব্যাংক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের এক যৌথ প্রতিবেদনে বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো—ইটভাটার ধোঁয়া ও ধুলা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট দূষণ। আমরা মনে করি, অতি সত্বর এই তিনটি কারণ দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবেশসংক্রান্ত আইনের সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে।

