আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আপনারা জানেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।’
তিনি বলেন, `চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করার প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দুই দেশের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর দাঁড়িয়ে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। নতুন সরকারের অধীনে এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলেই আশা করছে নয়াদিল্লি।
সংবাদ সম্মেলনে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ভিসা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির আলোচনা হবে।’
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্যে দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করছে। নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল আসার আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তারেক রহমানকে এক বিবৃতিতে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরে তারেকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গতি পায় দুই দেশের ভিসা কার্যক্রমও। আজ শুক্রবার থেকে দিল্লিতে ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ হাই কমিশন।

