সত্য সমাচার ডেস্ক:
১৪ অক্টোবর ২০২৬
বাতাসে পূজা-পূজা গন্ধ। এক বছরের প্রতীক্ষার এবার অবসান ঘটার পালা। দুর্গাপূজা শুধু উৎসব কিংবা পার্বণ নয়। শারদোৎসব হলো বাঙালি সনাতনীদের আবেগের উদ্যাপনও। দুর্গাপূজার প্রতিটি দিনের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। অষ্টমীতে ধুনুচি নাচ থেকে দশমীতে সিদুঁরখেলা— আলাদা আলাদা উদ্যাপনে সাজগোজেও চাই বৈচিত্র্য। এ নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন শোভন মেকওভার বিউটি ক্লিনিক অ্যান্ড মেকওভার স্যালুনের কসমোটোলজিস্ট, স্বত্বাধিকারী শোভন সাহা। বিস্তারিত লিখেছেন নিশাত তানিয়া
পূজার পাঁচ দিনের আলাদা মহত্ত্ব আছে, সে অনুসারে সাজলে সাজটা আরও সুন্দর হয়— বলছিলেন শোভন সাহা। আর এখন থিম বেইজ সাজ চলে।
ষষ্ঠীর সাজ
পূজার শুরুর দিন। শারদ উদ্?যাপনের সূচনা হয় ষষ্ঠী থেকেই। অনেকেই ষষ্ঠীর সাজগোজ নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করেন। সবচেয়ে কম জমকালো পোশাকটিই ষষ্ঠীতে পরার জন্য বেছে রাখেন বলে মনে করেন শোভন সাহা। তাই সুতিকেই এগিয়ে রাখলেন তিনি। ভিড়ের মাঝে অন্যের নজর কাড়তে হলে সাজতে হবে পরিপাটি করে। সাজগোজের ক্ষেত্রে শুধু স্বকীয়তা বজায় রাখলেই চলবে। ষষ্ঠীর দিন মেয়েরা পরতে পারেন কো-অর্ড কিংবা কুর্তি-লেগিংস। কুর্তির সঙ্গে চাইলে একটা দোপাট্টাও নিতে পারেন। হালকা মেকআপ আর ন্যুড লিপস্টিক মাস্ট। অন্যদিকে ছেলেরা ষষ্ঠীর জন্য বেছে নিতে পারেন প্যাস্টেল শেডের কুর্তা। জিন্স দিয়ে পরতে পারেন অথবা ঢিলেঢালা ট্রাউজার্সের সঙ্গেও মানাবে। কুর্তা পরলে স্নিকার্স, স্যান্ডেল কিংবা কিটোর বদলে পায়ে অবশ্য থাকতে হবে কোলাপুরি।
সপ্তমীর সাজ
পূজার দ্বিতীয় দিন। ধীরে ধীরে রঙিন হচ্ছে উৎসব। তাই সপ্তমীর সাজ হোক ট্রেন্ডি, তবে মার্জিত। সপ্তমীর সাজ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন। সাবেকিয়ানায় নিজেকে সাজাতে পারেন। চাইলে ইন্দো-ওয়েস্টার্নও পরতে পারেন। অনেকেই পূজার পাঁচ দিন শাড়ি পরেন। সে ক্ষেত্রে সপ্তমীর দিন সিল্ক পরতে পারেন। কাঞ্জিভরম, বেনারসি কিংবা অন্য কোনো ভারী শাড়ি পূজার বাকি দিনগুলোতে পরতে পারেন। তবে শাড়ি পরতে না চাইলে সপ্তমীর সন্ধের জন্য প্রিন্টেড লেহেঙ্গা মন্দ নয়। তা ছাড়া জরির কাজ করা কিংবা ভেলভেটের টপ-স্কার্টও পরতে পারেন। শাড়ি না পরলে খুব বেশি গয়না পরার দরকার নেই। লেহেঙ্গা, স্কার্টের সঙ্গে খুব স্লিক গয়না ভালো লাগবে। সপ্তমীতে ছেলেরা সাজতে পারেন একরঙা পাঞ্জাবিতে। তবে সবচেয়ে জমকালো পাঞ্জাবিটা তুলে রাখুন অষ্টমী-নবমীর জন্য। সপ্তমীর সন্ধ্যায় তাই খাদির পাঞ্জাবি পরতে পারেন। পায়ে লেদারের লোফার পরে নিলে সাজ সম্পূর্ণ।
অষ্টমীর সাজ
উৎসবের আঁচ মধ্যগগনে। অষ্টমীর সাজগোজ নিয়ে সবারই আলাদা পরিকল্পনা থাকে। অষ্টমীর সকালে অঞ্জলির ব্যাপার থাকে, তাই লাল, সাদা, ম্যাজেন্টাটাকে প্রাধান্য দিলেন শোভন সাহা। তবে সকালের অঞ্জলিতে অনেকেই বেশি কারুকাজ করা পোশাক পছন্দ করেন না। ছিমছাম সাজেই নিজেকে মেলে ধরতে চান যাতে মন্দিরের স্নিগ্ধতা আসে।
অষ্টমীর রাতের সাজ হওয়া চাই সবচেয়ে আলাদা। সকালের সাজ যদি হয় স্নিগ্ধ, রাতের সাজপোশাকে তাই গাঢ় রঙের ছোঁয়া থাকা জরুরি। সকালের সাজে থাকতে পারে পুরো লাল কিংবা সাদা-লালের কম্বিনেশনের শাড়ি। তবে রাতের সাজের জন্য কালারফুল অরগ্যাঞ্জা বেছে নিতে পারেন। মানানসই ব্লাউজ এবং গয়নায় সাজলে আলাদা দেখাবে। অষ্টমীর দিন অনেকেই সাবেকি শাড়ি পরতে ভালোবাসেন। সে ক্ষেত্রে জামদানি, কাঞ্জিভরম পরা যায়। ধুতি-পাঞ্জাবি ছাড়া পুরুষের অষ্টমীর সাজ ভাবা যায় না। সিল্কের ধুতি-সাদা পাঞ্জাবিতেই সেজে উঠুন অষ্টমীতে। বললেন শোভন সাহা।
নবমীর সাজ
পূজার শেষ লগ্ন। তবে দিনে আমাদের গর্জিয়াস দেশীয় পোশাকের সঙ্গে হালকা সাজকে এগিয়ে রাখলেন শোভন সাহা।
তাবে রাতে সাজগোজের সঙ্গে আপস করা চলবে না। পূজার পাঁচ দিনের মধ্যে নবমী হলো সবচেয়ে জমকালো। নবমীতেও চাইলে শাড়ি পরতে পারেন। নবমীর রাতে নেটের শাড়ি পরতে পারেন। শাড়ির বিকল্প কিছু খুঁজলে আনারকলি পরা যেতে পারে। ছেলেরা নবমীতে শেরওয়ানি পরতে পারেন। তবে সিল্কের পাঞ্জাবি পরলেও মন্দ দেখাবে না।
দশমীর সাজ
দশমী মানেই সিঁদুরখেলা। তাই লাল রঙই পরনে জড়িয়ে নিতে পারেন দশমীতে, বলছিলেন শোভন। লাল শাড়ির সঙ্গে ফুল স্লিভড অথবা গ্লাস হাতা ব্লাউজ পরতে পারেন। দশমীর দিনের সাজে সোনার গয়নার বিকল্প নেই। লালের সঙ্গে সোনার গয়না অথবা এন্টিক জুয়েলারি ভিষণ মানাবে। চুলে লম্বা বেণি বা খোঁপা করে ফুল অথবা চুলের কাঁটা দিলে বেশ একটা বনেদি ভাব আসবে।
আর ছেলেরা ঠাকুর ভাসানে পরে নিন সুতির বা গরদের লাল কুর্তা আর সাদা পায়জামা, তাতে থাকবে সোনালি সুতার কাজ। তবে দিনের পোশাকের সঙ্গে স্টাইলিশ এবং আরামদায়ক জুতা অবশ্যই পরতে হবে।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.