নারীর দেহ এক নিঃশব্দ আকাশ—
শ্বাসের আলোর রেখায় আঁকা,
অদৃশ্য আকর্ষণের টানে বাঁক নেওয়া,
যেখানে প্রতিটি কোণে
নিঃশব্দে ফুটে ওঠে রহস্যের ফুল।
তারই গভীরতম কোমল কেন্দ্রে
আছে এক অনামা প্রদীপ—
প্রার্থনার মতো নরম,
প্রথম অনুভবের ভোরের মতো প্রাচীন।
অতি ক্ষুদ্র, চোখে না-ধরা,
তবু অনন্ত আনন্দ বহন করার ক্ষমতায় পূর্ণ।
চোখ যা দেখে, তা কেবল বাহিরের তট।
ভেতরে আছে স্নায়ুর গান,
রক্তের উষ্ণ স্রোত,
আর এক মিলনক্ষেত্র—
যেখানে চিন্তা ছুঁয়ে যায় অনুভূতিকে,
আর অনুভূতি নত হয়ে শোনে আত্মার ডাক।
এ কেবল দেহ নয়—
এ এক কম্পন, যা জন্ম নেয় বিশ্বাসে;
এক তান, যা জেগে ওঠে কেবল সেখানেই
যেখানে নিরাপত্তা আশ্রয় পায়,
আর ভালোবাসা ভয় ছাড়ে।
এ বলে—
নারীর আনন্দ কোনো অপরাধ নয়,
কোনো লজ্জাও নয়।
এ নীরবতায় চাপা পড়বার জন্য নয়,
এ প্রকৃতিরই দান—
যেখানে প্রেম, মর্যাদা ও স্বাধীনতা
এক সুতায় গাঁথা হয়ে
সুখের নাম ধারণ করে।
যেদিন নারী নিজ দেহকে চিনে নেয়,
সে শুধু সুখ খুঁজে পায় না—
সে খুঁজে পায় নিজের অধিকার,
নিজের মুক্তি,
নিজের অস্তিত্বের পূর্ণ স্বীকৃতি।
এ কোনো অঙ্গমাত্র নয়।
এ এক নীরব ভাষা—
সূফির নিঃশ্বাসে উচ্চারিত জিকিরের মতো,
রবীন্দ্রের গানের অদৃশ্য অন্তরার মতো—
আমি অনুভব করি।
আমি আছি।
আমি সম্পূর্ণ।
⸻—————
SYED L. ALI BAHRAM
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস

