মানুষ আশা জড়ো করে
যেমন ভোর আলো জড়ো করে—
নিঃশব্দে, বিশ্বাসে,
যে প্রভাতের ডাকে
দিন একদিন সাড়া দেবেই।
তবু কতবার আকাশ শোনে
আর কোনো উত্তর দেয় না।
আমাদের প্রার্থনা পাখির মতো উড়ে যায়,
ফিরে আসে ছায়া হয়ে
চেনা মাটির বুকে।
আমরা আগামীকাল গড়ি
কম্পিত হাতে,
প্রতিটি চাওয়াকে নাম দিই বিশ্বাস,
প্রতিটি অপেক্ষাকে ভরসা।
কিন্তু পূর্ণতা আমাদের পাশ কাটিয়ে যায়,
অন্যের মুখ পরে।
এ কি ব্যর্থতা,
না কি লীলার গভীর সুর?
পরমেশ্বর প্রতিশ্রুতির ভাষায় কথা বলেন না।
তিনি লেখেন ঋতুতে,
ঝরা পাতায়,
বৃষ্টির ধীর ব্যাকরণে।
যাকে আমরা বিলম্ব বলি,
হয়তো সেটাই সত্যের পেকে ওঠা।
প্রকৃতি—
এই প্রকৃতি কী,
ইচ্ছা আর সমর্পণের মাঝখানের নিঃশ্বাস ছাড়া?
সে না পক্ষ নেয়, না অস্বীকার করে;
সে শুধু বয়ে চলে—
নদীর মতো,
যে দুই তীর ছুঁয়ে যায়
কিন্তু কোনো তীর বেছে নেয় না।
সব কি তবে নিয়তির লেখা?
তবু কি সব স্থির?
হয়তো নিয়তি কেবল পথ,
আর আশা সেই পথে হাঁটা।
আমরা হোঁচট খাই, প্রশ্ন করি, ব্যথা পাই—
তবু পথ আমাদের গ্রহণ করে।
আমার অপূর্ণ আশাগুলো
তবে থাক
অদৃশ্যের দ্বারে অর্ঘ্য হয়ে।
যদি কিছুই না মেলে,
তবু যেন এই বোধ আসে—
পরমের উপর ভরসা
মানে উত্তর দাবি করা নয়,
বরং
উত্তরহীন আলোর মধ্যে
দাঁড়িয়ে থাকতে শেখা।
⸻
সৈয়দ এল, আলী বাহরাম
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক,
প্রাক্তন সদস্যঃ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ॥

