উত্তর হংকংয়ের তাই পো-র ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসনের অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ জনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭৬ জন। এছাড়া এখনো খোঁজ নেই কমবেশি ৩০০ জনের।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালের গারলি বিল্ডিং অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে হংকংয়ের সবচেয়ে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড এটি।
দেশটির পুলিশের দাবি, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময় ব্যবহৃত অনিরাপদ স্ক্যাফোল্ডিং ও ফোম সামগ্রী আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতে পারে।
বৃহস্পতিবারও দমকলকর্মীরা ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সের ওপরের তলাগুলোতে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে কাজ করেন। তবে প্রচণ্ড তাপ ও ঘন ধোঁয়ার কারণে তাদের কাজ কঠিন হয়ে পড়ে। দিনের শেষ দিকে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, একটি টাওয়ারের ১৬তম তলার সিঁড়ি থেকে এক জীবিতকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে কর্তৃপক্ষ জানায়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৪ হয়েছে। এ ছাড়া ৭৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জন দমকলকর্মী।
দমকল বিভাগ জানায়, আটটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের মধ্যে চারটির আগুন নেভানো হয়েছে এবং তিনটিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একটি ভবন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি বৃহস্পতিবার ভোরে বলেন, ‘২৭৯ জনের সঙ্গে যোগাযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।’ যদিও পরে দমকলকর্মীরা জানান, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা গেছে। এ সংখ্যা পরবর্তীতে আপডেট করা হয়নি।
লি আরও জানান, রাতভর ৯শ’ এর বেশি মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, ওয়াং ফুক কোর্টের ওই আবাসন কমপ্লেক্সের আটটি ব্লকে ছিল ১৯৮৪টি ফ্ল্যাট। প্রত্যেক বিল্ডিংয়ে ছিল ৩১টি তলা। যা ছিল প্রায় ৫০০০ হংকংবাসীর মাথা গোঁজার ঠাঁই। এদের সিংহভাগই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা।
জানা গিয়েছে, তাই পো-র ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসনের একটি ব্লকে চলছিল মেরামতির কাজ। গা ঘেঁষাঘেষি করে থাকা বিল্ডিংগুলোকে ঘিরে বাঁধা ছিল বাঁশের ভারা ও সবুজ নেট। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি, বুধবার বিকেল তিনটে নাগাদ বাঁশের ভারায় আগুন লেগে যায়। বাঁশের ভারা ও সবুজ নেট, দুটোই সাংঘাতিক দাহ্য হওয়ায় মুহূর্তে ছড়িয়ে যায় আগুন। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে সাতটি বিল্ডিং।
আগুনের ভয়াবহতার পেছনে স্টাইরোফোম ব্যবহারের কথাই সামনে আসছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেট্রোলিয়ামভিত্তিক এই প্লাস্টিক সাধারণত প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত হলেও তা নাকি বিল্ডিং মেরামতের কাজেও লাগানো হয়েছিল।
অভিযোগ উঠেছে- আবাসনের জানালাগুলোতে এই নন-বায়োডিগ্রেডেবল উপাদান ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অগ্নিকাণ্ডটি আরও বিধ্বংসী রূপ নেয়।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2025 sattyasamacher.com. All rights reserved.