অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে দক্ষিণ এশিয়ার দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি ভারত ও চীন তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসায় এবং তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতির ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এই অঞ্চলে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
ভারতের নতুন করে সম্পৃক্ত হওয়ার বার্তা
ভারতের পক্ষ থেকে নতুন সরকারের প্রতি ইতিবাচক ও গঠনমূলক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠক শেষে হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সাংবাদিকদের জানান, ভারত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে “ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং দূরদর্শী” পদ্ধতিতে কাজ করতে আগ্রহী
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা এবং জনমুখী সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারিত করা। আমরা একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং তাকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠি তারেক রহমানের হাতে পৌঁছে দেন।
চীনের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে সমর্থন
অন্যদিকে, চীনও সমানতালে তাদের কূটনৈতিক সংযোগ বজায় রাখছে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রিমিয়ার লি ছিয়াং-এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পৌঁছে দেন।
চীনা রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট জানান যে, চীন তারেক রহমানের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বৈদেশিক নীতিকে স্বাগত জানায়। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়গুলো উঠে আসে। ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আগামীর চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ভারত ও চীনের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। ভারতের জন্য প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা এবং বিগত বছরগুলোতে হওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলোর ধারাবাহিকতা। অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশে তাদের বিশাল অবকাঠামোগত বিনিয়োগ এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)-এর সফল বাস্তবায়ন চায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশের স্বার্থই হবে তার বৈদেশিক নীতির মূল চালিকাশক্তি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যা আগামী দিনে দুই দেশের বরফ গলার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত। ভারত ও চীনের এই প্রতিযোগিতামূলক ও নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতা প্রমাণ করে যে, নতুন সরকারের সঙ্গে স্থিতিশীল এবং দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব স্থাপন উভয় দেশের জন্যই অপরিহার্য। সামনের কয়েক মাসের উচ্চপর্যায়ের সফরগুলোই নির্ধারণ করে দেবে আগামীর ভূ-রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেবে।

