অনলাইন ডেস্ক : গ্লুকোমা হলো চোখের এমন এক অবস্থা, যেখানে চোখের চাপ বা ইন্ট্রাঅকুলার প্রেসার (আইওপি) স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি হয়ে যায়। সাধারণত চোখের স্বাভাবিক চাপ ২১ মিলিমিটার পর্যন্ত থাকে। এ চাপ দীর্ঘদিন বেশি থাকলে চোখের অপটিক নার্ভ ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে। একবার অপটিক নার্ভ নষ্ট হয়ে গেলে তা আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় না।
গ্লুকোমার কারণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ জানা না গেলেও গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে জিনগত প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ পরিবারে কারও গ্লুকোমা থাকলে অন্য সদস্যদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। এছাড়া জন্মগত চোখের ত্রুটি, চোখের অন্য কোনো রোগ বা আঘাতের কারণেও গ্লুকোমা হতে পারে। তবে সাধারণভাবে বয়স্কদের মধ্যে যে গ্লুকোমা দেখা যায় এবং যার কোনো স্পষ্ট কারণ থাকে না, তাকে প্রাইমারি গ্লুকোমা বলা হয়। প্রাইমারি গ্লুকোমা প্রধানত দুই ধরনের- প্রাইমারি ন্যারো অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা (পিএনএজি) এবং প্রাইমারি ওপেন অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা (পিওএজি)। এর মধ্যে প্রাইমারি ওপেন অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক, কারণ এটির সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না। ধীরে ধীরে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে, অথচ রোগী অনেক সময় তা বুঝতেই পারেন না। এ কারণে একে চোখের ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।
গ্লুকোমার উপসর্গ সাধারণত স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না বলে নিয়মিত পরীক্ষা ছাড়া এ রোগ শনাক্ত করা কঠিন। অনেক সময় অন্য কোনো কারণে চোখ পরীক্ষা করতে গেলে বা চশমার পাওয়ার নির্ধারণের সময় চক্ষু বিশেষজ্ঞরা গ্লুকোমার লক্ষণ শনাক্ত করেন। বিশেষ স্ক্রিনিং কর্মসূচির মাধ্যমেও গ্লুকোমা শনাক্ত করা সম্ভব। রোগ নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, টনোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে চোখের চাপ মাপা হয়। দ্বিতীয়ত, অফথ্যালমোস্কোপ দিয়ে চোখের ভেতরের অংশ এবং অপটিক নার্ভ হেড পরীক্ষা করা হয়। তৃতীয়ত, ভিজ্যুয়াল ফিল্ড অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে চোখের নার্ভের কার্যকারিতা ও দৃষ্টিক্ষেত্রের অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়, যা সাধারণত একটি ডিজিটাল যন্ত্রের সাহায্যে করা হয়।
গ্লুকোমার চিকিৎসায় সাধারণত প্রথমে চোখে ব্যবহারযোগ্য বিশেষ ড্রপ দেওয়া হয়, যা দীর্ঘদিন এমনকি সারাজীবন ব্যবহার করতে হতে পারে। তবে নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে এবং ব্যয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ ছাড়া অনেক সময় রোগীরা নিয়মিত ড্রপ দিতে ভুলে যান। এসব ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে, যা চোখের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে লেজার চিকিৎসাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
গ্লুকোমা থেকে অন্ধত্ব এড়াতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত রোগ শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা। একবার রোগ ধরা পড়লে নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। যারা মনে করেন দীর্ঘদিন ওষুধ ব্যবহার করা তাদের জন্য কঠিন, অথবা যাদের ক্ষেত্রে ড্রপ ব্যবহারের পরও চোখের চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে না, তাদের জন্য অস্ত্রোপচার বিবেচনা করা উত্তম।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.