আদালত প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দুর্নীতির মামলায় অভিনেতা ও সাবেকমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। অন্যদিকে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত দুর্নীতির মামলায় হাজিরা দিয়েছেন।
গত ৩০ জুলাই পাঁচ কোটি ৩৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বেশি মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে নূরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
এই মামলায় তাকে আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা, দুদকের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান। আজ শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ নূরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার দেখানোর পর নূরের পক্ষে তার আইনজীবী কাওছার আহমেদ জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আগামি ১২ অক্টোবর জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
আর সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও অর্থনীতিবিদ এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত দুর্নীতির মামলায় হাজিরা দিয়েছেন। আজ পলক এবং তার স্ত্রী আরিফা জেসমিনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে আজ দুদক প্রতিবেদক দাখিল না করায় একই আদালত আগামি ২৭ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন। আজ সকালে পলককে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
অ্যাননটেক্সের ২৯৭ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলায় অর্থনীতিবিদ এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাতসহ ২৩ জনের মামলার দিন ধার্য ছিল। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আবুল বারকাত কারাগারে রয়েছেন। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আজ তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলাটিতে দুদক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় প্রতিবেদন দাখিলের দিন পিছিয়ে আগামি ২৭ নভেম্বর ধার্য করেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুনাইদ আহমেদ পলক এবং তার স্ত্রী আরিফা জেসমিনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
গত বছরের ১৫ আগস্ট পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন সময় হত্যা, হত্যাচেষ্টা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি তাকে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদিকে, আসাদুজ্জামান নূরের মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয় নূর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ১ হাজার ১৯০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তা নিজের দখলে রেখেছেন। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১৯টি হিসাবে তার অ্যাকাউন্টে ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৮ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এ লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
গত ১০ জুলাই রাতে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাকে এ মামলায় দুই দিনের রিমান্ডেও নেয়া হয়।
জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান, আবুল বারকাতসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.