
থাইল্যান্ডের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর গুলিবর্ষণে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। শুক্রবার সকালে রাজধানী ব্যাংককের উত্তরে ননথাবুরি প্রদেশের একটি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ত্রাইরং ফিউফান জানিয়েছেন, ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গুলিবর্ষণের সময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চের নিচে লুকিয়ে পড়ে। গুলির শব্দে তাদের কান্নার দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও পরে যাচাই করে দেখা হয়েছে। আরেকটি ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় একজন কর্মী তাদের নিরাপদে বের হতে সহায়তা করেন।
ব্যাংককের উত্তরে ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই এলাকায় ব্যস্ত একটি মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এ হামলা হয়। প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়টি স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন বন্দুকধারী নিহত হয়েছে বলে পুলিশের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশিত হলেও পরে পুলিশ জানায়, সে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে জরুরি চিকিৎসা দিচ্ছেন।
থাইল্যান্ডের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পুলিশের দেওয়া একটি ছবিতে স্কুলের ভেতরের মেঝেতে একটি হ্যান্ডগান ও বেশ কয়েকটি গুলি ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্রটি সন্দেহভাজন শিক্ষার্থীর পরিবারের একজন সদস্যের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সে কীভাবে অস্ত্রটির কাছে পৌঁছেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের মুখপাত্র ত্রাইরং জানান, ওই শিক্ষার্থী তার বাবা-মায়ের সঙ্গে নয়, প্রাপ্তবয়স্ক কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে বসবাস করত।
ঘটনার পর জরুরি বিভাগের কর্মীরা স্ট্রেচার নিয়ে দ্রুত স্কুলে পৌঁছান। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় থাইল্যান্ডে বেসামরিক পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা তুলনামূলক বেশি। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক স্মল আর্মস সার্ভের ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বেসামরিক নাগরিকদের কাছে ১ কোটি ৩ লাখের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন মানুষের বিপরীতে প্রায় ১৫টি বন্দুক রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের ২০১৯ সালের গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ ডেটাবেস অনুযায়ী, ফিলিপাইনের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন্দুক হামলায় হত্যার দিক থেকে থাইল্যান্ডের অবস্থান দ্বিতীয়।
দেশটিতে এর আগেও স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের হাত ইয়াই এলাকায় একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে এক শিক্ষক নিহত এবং এক শিক্ষার্থী আহত হন।
এর আগে ২০২২ সালে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলায় ৩৬ জন নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ২৪ জনই শিশু। ঘটনাটি থাইল্যান্ডের ইতিহাসে এ ধরনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.