সত্য সমাচার ডেক্স :
০৬ নভেম্বর ২০২৫,
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষ করেছে বিএনপি। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার আর্জি জানিয়ে বিএনপি আদালতকে বলেছে, আসন্ন নির্বাচন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই আয়োজন করতে হবে।
গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে অষ্টম দিনের শুনানি হয়। বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। বিএনপির শুনানি শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিও নেওয়া হয়।
শুনানি শেষে বিএনপির আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আদালতকে বলেছি, রাষ্ট্রের নাগরিকের মালিকানা নির্ধারিত হয় ভোটের মাধ্যমে। একজন বিচারপতি আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ‘যারা ভোট দেন তারা ট্যাক্স দেন। এই রাষ্ট্র পরিচালিত হয় ট্যাক্সের পয়সায়। কিন্তু তাদের রাষ্ট্রের মালিকানায় কোনো অংশীদারত্ব থাকে না।’ আমি আদালতকে বলেছি, ‘এই অংশীদারত্ব প্রমাণের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করা। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আমার মৌলিক দাবি। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, গণতন্ত্রকে সমুন্নত করার জন্য। এই মৌলিক কাঠামো সংবিধানে সন্নিবেশিত ছিল। সুতরাং এবিএম খায়রুল হক মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থির অজুহাতে যে সংশোধনীটা বাতিল করেছেন, সেটি আপনারা পুনর্বিবেচনা করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে ফিরিয়ে আনুন।’
আসন্ন সংসদ নির্বাচন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আয়োজনের কথা আদালতকে বলেছেন জানিয়ে বিএনপির এ আইনজীবী বলেন, ‘আদালতকে বলেছি, অতীতের নজির অনুযায়ী বাংলাদেশের যে কোনো আইন বা রায় সব সময় পরবর্তী সময় থেকে কার্যকর হয়। আমি বক্তব্যের শেষাংশে আদালতকে বলেছি, আপনারা যে রায়ই দেবেন না কেন, তা যেন পরবর্তী
সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী। পরে বিএনপি সরকারের সময়ে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট সেই রিট খারিজ হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বৈধই থাকে।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আপিল করেন রিট আবেদনকারীরা। ২০০৬ সালে রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে জরুরি অবস্থা জারির পর গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর এ পদ্ধতির দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে ২০১০ সালের ১ মার্চ আপিল বিভাগে ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে আপিল আবেদনকারী এবং রাষ্ট্রপক্ষ ছাড়াও অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে শীর্ষস্থানীয় ৮ জন আইনজীবী বক্তব্য দেন। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। এমনকি তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও এর পক্ষে মত দেন।
ওই আপিল মঞ্জুর করে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেয়। তখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন এবিএম খায়রুল হক। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়ার আগেই ২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলুপ্তি এবং ৫৫টি সংশোধনীসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাস হয়। একই বছরের ৩ জুলাই তাতে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.