ইরানের রাজধানী তেহরানে তেলের মজুত রাখার কয়েকটি কমপ্লেক্সে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। হামলার পর তেহরানে আকাশে ব্যাপক কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
আইডিএফ বলেছে, এটি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোর ওপর চালানো একটি ‘উল্লেখযোগ্য হামলা’। তাদের দাবি, ইরানের শাসকগোষ্ঠী এসব জ্বালানি ট্যাংক সরাসরি ও নিয়মিতভাবে সামরিক অবকাঠামো পরিচালনার কাজে ব্যবহার করে।
ওদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈরুতের একটি হোটেলে ইসরায়েলি হামলায় চারজন নিহত ও আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যে হোটেলে বিমান হামলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সেখানে দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর থেকে যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা মানুষরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। যদিও এরপর আবারও হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় কিছু মানুষকে ভবনটি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।
আইডিএফ টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, তারা একটি সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের আইআরজিসির কুদস ফোর্সের লেবানন কোরের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার, যারা বৈরুতে থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
কুদস ফোর্স হলো আইআরজিসি (ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর)-এর বিদেশে পরিচালিত সামরিক কার্যক্রমের শাখা।
আইডিএফ চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিল, তারা লেবানন কোরের অস্থায়ী কমান্ডার দাউদ আলিজাদেহকে হত্যা করেছে।
এক বিবৃতিতে আইডিএফ অভিযোগ করেছে, কুদস ফোর্স ইসরায়েল রাষ্ট্র ও তার বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছিল।একই সঙ্গে তারা এও বলেছে যে, তারা যেখানেই কাজ করুক না কেন, ইরানের ‘সন্ত্রাসী শাসনের’ কমান্ডারদের লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট অভিযান চালানো অব্যাহত থাকবে।
তবে বিবৃতিতে হামলার সঠিক স্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত এই হামলা নিয়ে ইরানের দিক থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে আইডিএফ জানায়, তারা বৈরুতে আরও এক দফা হামলা শুরু করেছে, যা শহরের দাহিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে।

