সত্য সমাচার ডিজিটাল
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
তিস্তা প্রকল্প দ্রুত শুরু করলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন প্রস্তুত। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মঙ্গলবার ঢাকায় চীন দূতাবাসে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘তিস্তা আপনাদের এলাকার নদী, আপনাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এ প্রকল্প দ্রুত শুরু করলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে।’
ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘২০২১ সালে বাংলাদেশ সরকার তিস্তা প্রকল্পের জন্য চীনের সহায়তা চেয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। প্রকল্পটি মূল্যায়ন করার পর ২০২৩ সালে চীন বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রতিবেদন দিয়ে জানায় যে, তাদের দেওয়া প্রকল্পে কিছু অপ্রয়োজনীয় উপাদান থাকায় প্রকল্পটি সংশোধন করা উচিত। কিন্তু তারপর থেকে আমরা এখনো বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি।’
চীনের কুনমিং প্রদেশের সেরা তিনটি হাসপাতালকে বাংলাদেশের রোগিদের চিকিৎসাসেবার জন্য বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রদূত বলেন, চিকিৎসার ধরণ, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, দোভাষী নির্বাচনসহ সামগ্রিক প্রস্তুতিতে দুই দেশের সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে মার্চের শুরুতেই বাংলাদেশের রোগীদের প্রথম দলটি চিকিৎসা নিতে কুনমিং যাবে বলে আশা করছে বেইজিং।
গত মাসে পররাষ্ট্র উপদেস্টা মো. তৌহিদ হোসেন বেইজিং সফর করেন। তখন তিনি প্রথম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। ভারতের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশিদের চিকিৎসার ওই প্রস্তাব তৎক্ষণাৎ লুফে নেয় চীন। সংবাদ সম্মেলনে চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, ঢাকায় হাসপাতাল তৈরির জন্য বাংলাদেশের কাছে থেকে বিস্তারিত প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে চীন।
এ ছাড়া চীন তাদের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জুলাই-আগষ্ট অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিশেষায়িত আধুনিক সরঞ্জাম দেবে। ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থাপিত ওই চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকেন্দ্রের জন্য রোবোট নিয়ন্ত্রিত ২০টি আধুনিক সরঞ্জাম আগামী মাসের শুরুতে ঢাকায় আসবে।
দুই দেশের ভবিষ্যত সহযোগিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, গত ৫০ বছর ধরে অভিন্ন স্বার্থে একে অপরকে সহযোগিতা করে আসছে। চীন সবসময় বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যাই থাকুক না কেন, পরস্পরিক সম্মান, সাম্য এবং স্বার্থকে সামনে রেখে এ দেশের সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বই চীনের নীতি।
দুই দেশের বন্ধুত্বের এ ভিত্তি কখনো পরিবর্তন হবে না আশা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্বভৌম এবং জাতীয় ঐক্য সুরক্ষায় চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য চীনকে বেছে নিয়েছেন। এটা দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং সহযোগিতার স্পষ্ট বার্তা। সেই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বকে সুসংহত ও গভীর করার বাড়তি সুযোগ। চীন ও বাংলাদেশ একে অপরকে সুপ্রতিবেশি ও বিশ্বস্থ অংশীদার ভাবে জানিয়ে তিুনি বলেন, বিশ্ব-রাজনীতি কিংবা বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির যে পরিবর্তনে এ সম্পর্ক প্রভাবিত হবে না। বরং এটি সব সময়ে সামনের দিকে প্রবল গতিতে এগিয়ে যাবে।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.