‘সবার আগে বাংলাদেশ’—মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে—এ ক্ষেত্রেও কোনো আপসের সুযোগ নেই। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার, যা তারেক রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা ও দেশপ্রেমের গভীর অভিব্যক্তি। তিনি এই বাক্যের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চেয়েছেন—রাষ্ট্র পরিচালনায়, নীতি নির্ধারণে এবং রাজনীতিতে ব্যক্তি, দল কিংবা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়; সর্বাগ্রে স্থান পাওয়া উচিত দেশের সার্বিক কল্যাণ, জনগণের অধিকার এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অগ্রাধিকার। তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫৪ বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন যদি আমরা এভাবে দেখি—১৯৭১ সাল ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার।’
তারেক রহমানের ভাষায়, ‘দেশ তো শুধু আমাদের দল নিয়ে নয়, আমাদের দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে নয়; দেশ হচ্ছে দেশের মানুষকে নিয়ে—প্রায় ২০ কোটি মানুষকে নিয়ে দেশ।’ তিনি রাজনৈতিক কর্মীদের বারবার সতর্ক করেছেন, ‘আপনাদের চলাফেরা, কথাবার্তা, ভাবভঙ্গি—সবকিছুতে জনগণের আস্থা যেন অটুট থাকে। আমরা যদি জনগণের আস্থা হারাই, তাহলে সারা দিন আলোচনা করে লাভ নেই। জনগণের আস্থা ধরে রাখাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।’ তিনি রাজনৈতিক আত্মতুষ্টিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটা ভাবলে ভুল হবে, সবকিছু একা তারেক রহমান সামলে নেবেন। আমাদের সবাইকেও দায়িত্ব নিতে হবে।
তাঁর নেতৃত্বে জনগণই মূল কেন্দ্রে। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য রাজনীতিকদের প্রথম দায়িত্ব হলো জনগণের কাছে যাওয়া। কৃষক, শ্রমিক, নারী, শিক্ষক, প্রতিবন্ধী, যুবক, তরুণ, শিশু, প্রবীণ—সবার কথা শোনা এবং তাদের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কী করতে চাই কৃষকের জন্য, শিক্ষকের জন্য, নারীর জন্য, তা মানুষকে জানাতে হবে। চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, আমাদের পরিকল্পনা জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।’
তারেক রহমানের স্বপ্ন একটি গণতান্ত্রিক, সুশাসিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র, যেখানে মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বৈষম্য হ্রাস পাবে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, পারস্পরিক অবিশ্বাস, স্বচ্ছতার অভাব, সহিংসতা, দমন-পীড়ন, বাকস্বাধীনতার সংকট—এসবই চ্যালেঞ্জ। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিভাজন জাতীয় ঐক্যের পথে বড় বাধা। দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতি সুশাসনকে দুর্বল করে এবং প্রতিপক্ষের হাতে রাজনৈতিক সুবিধা তুলে দেয়।
এই বাধা কাটিয়ে ওঠার জন্য তারেক রহমান জোর দিয়েছেন দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর শাস্তি, শক্তিশালী নৈতিক কোড, কার্যকর আইন এবং স্বচ্ছ দলীয় নীতিমালায়। প্রশিক্ষণ, জবাবদিহি এবং জনকল্যাণমূলক মনোযোগ নিশ্চিত করে নেতাকর্মীদের কার্যকর করা জরুরি। দলীয় অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জনগণের সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হলে নেতাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে।
এ জন্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তারেক রহমানকে। তারেক রহমানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ চলছে এক গভীর রাজনৈতিক অভিভাবকহীনতায়, যেখানে নেতৃত্বহীনতার শূন্যতাই জাতীয় অস্থিরতার মূল কারণ। এটা বর্তমানেও চলমান। এই পরিস্থিতিতে তাঁর নেতৃত্ব একান্তই অপরিহার্য। শুধু বিএনপি নয়, দেশের জনগণ তাঁর প্রতীক্ষায়—তিনি যেন তাঁদের আশা, স্বপ্ন এবং অধিকার ফিরিয়ে আনার একমাত্র আশ্রয়। মামলাগুলোর ফয়সালা এখনো চলমান থাকলেও তাঁর উপস্থিতি এখন আগের চেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমরা আশা করি, তিনি খুব শিগগিরই দেশে ফিরে আসবেন। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতায় জনগণের মুখে হাসি ফোটাবেন। একটি গণতান্ত্রিক, সুশাসিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন, যা শুধু একটি লক্ষ্য নয়; বরং আমাদের সবার