
গাজা সিটির আল-সাদা ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় ২১ ফিলিস্তিনির মৃত্যুর পর থেকেই তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ও স্থানীয় মানুষ। ইসরায়েলি হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অথচ দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনগুলোকে এখন যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কাযুক্ত ‘ঝুলন্ত কবর’ বলে অভিহিত করেছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। বিকল্প আবাসনের সুযোগ না থাকায় এবং তাঁবুর অপর্যাপ্ততার কারণে বাধ্য হয়েই লক্ষাধিক মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর ভেতরে কিংবা ঠিক পাশেই বসবাস করছেন।
গাজা সিটির রিমাল এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের পাশের একটি তাঁবুতে পরিবার নিয়ে বসবাসকারী মোহাম্মদ আল-মাসরি জানান, আল-সাদা ভবন ধসে পড়ার পর থেকে প্রতিটি বিকট শব্দ বা কম্পন তাকে আতঙ্কিত করে তোলে। রাতের বেলা ঘুমিয়ে থাকার সময় কোনো ভবন মাথার ওপর ভেঙে পড়বে কিনা এই দুঃস্বপ্নে কাটে তাদের দিন।
গাজার পূর্ত মন্ত্রণালয় এবং সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, পুরো উপত্যকায় প্রায় তিন হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কাঠামো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে খান ইউনিস ও অন্যান্য অঞ্চলেও বিপজ্জনক ভবন শনাক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস ২৫৫টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করে ভেঙে ফেলার জরুরি পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়নের প্রধান বাধা হলো ভারী সরঞ্জামের সংকট এবং বিকল্প আশ্রয়ের অভাব। আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সরঞ্জামের প্রবেশে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার কারণে এই বিপজ্জনক কাঠামো অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সামনে শীতকাল আসায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বৃষ্টির পানি ও বাতাস দুর্বল কাঠামোকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে, অন্যদিকে তাঁবুতে বসবাসকারীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। সব মিলিয়ে, গাজার ফিলিস্তিনিরা এখন এক মর্মান্তিক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন হয় ভাঙা ইমারতের নিচে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে থাকা, নতুবা শীতের মধ্যে নিরাপত্তাহীন তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.