অনলাইন ডেক্স:
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাধারণত বিনাইন টিউমার পিণ্ডের মতো হয়। এগুলো আলাদা করা যায়। এক বা একাধিক জায়গায় আবদ্ধ থাকে। সিস্ট বা থলির মতো থাকতে পারে। ম্যালিগন্যান্ট ক্যানাসার পিণ্ড না হয়েও নরম থাকতে পারে। এর কোনো সীমানা নির্ধারণ করা যায় না। আকার, আকৃতি বোঝা যায় না। এক জায়গায় আবদ্ধ না থেকে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে সুস্থ কোষ আক্রমণ করে ধ্বংস করে ফেলে। এর সঠিক চিকিৎসা না করালে মৃত্যু হয়। মূল উৎপত্তিস্থল থেকে ক্রমে এগুলো মেটাস্টাসাইজ হয়ে শরীরের অন্য অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। তখন আর আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। সম্ভবত ভবিষ্যত ম্যালিগ্যান্ট যে কোনো ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে কয়েক ধরনের টিউমার রয়েছে। বিনাইন দেখতে পিণ্ডবদ্ধ কিন্তু ছড়ায় না। তবে ভবিষ্যতে ছড়াতে পারে। সব সময় যে ক্যানসারের বিস্তার নিয়ম মেনে হয়, তা নয়। বিনাইন কখনো কখনো ম্যালিগ্যান্ট রূপ নেয়। ম্যালিগ্যান্ট পিণ্ডবদ্ধ হতে পারে। আবার নমনীয় ক্যানসার কোষ থাকতে পারে। সাধারণত বিনাইন টিউমার নিশ্চিত হলে আক্রান্তকে ফলোআপে রাখেন চিকিৎসকরা, সার্জারি করেন না। বিনাইন ক্ষতিকর না হলেও অনেক সময় বাড়তে বাড়তে বড় ধমনি বা গুরুত্বপূর্র্ণ অঙ্গ ও টিস্যুতে চাপ তৈরি করে, যা পরবর্তীকালে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। আবার অনেক বিনাইন টিউমার তৈরি করে। বায়োপসি করার সময় ভেতরের কোষগুলো শরীরের অন্য অংশে গিয়ে সমস্যা করে। রোগী ও রোগের অনেকগুলো বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসা করা হয়। যেমন প্রাইমারি লোকেশন, বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট, লসিকা গ্রন্থি (শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী ব্যবস্থার অংশ) আক্রান্ত কিনা, সাইজ, গ্রেড, মেটাস্টাসাইজ হয়েছে কিনা ইত্যাদি। ক্যানসার হওয়ার পর ভালো হবে কিনা, কতদিন রোগী বাঁচবেন— এটি নির্ভর করে চিকিৎসার কার্যকারিতা, সাইজ, গ্রেড, বয়স বৃদ্ধির হার এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর।
প্রথম ধাপ : ক্যানসার নয়, ছড়িয়ে পড়ার কোনো লক্ষণ ধরা পড়েনি। ৫ বছর পর্যন্ত বাঁচার হার শতভাগ।
ধাপ দ্বিতীয় : ১ এ ২ সেন্টিমিটার ছোট টিউমার, ছড়িয়ে পড়ছে না। ১-বি খুব ছোট টিউমার থাকতে পারে, নাও থাকতে পারে কিন্তু খুব ছোট ছোট একাধিক কোষ পাওয়া গেছে। লসিকা গ্রন্থিতে থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। ৫ বছর পর্যন্ত বাঁচার হার শতভাগ।
ধাপ তৃতীয় : এ এবং বি ভাগ আছে, টিউমার ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ছোট ছোট একাধিক ক্যানসার কোষ আছে (২ মিলিমিটারের নিচে) ৩টির মতো লসিকা গ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ৫ বছর পর্যন্ত বাঁচার হার নব্বইভাগ।
ধাপ চতুর্থ : এ, বি এবং সি ভাগ আছে, ভয়াবহ অবস্থা, কোনো রকম লক্ষণ থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। লাল হয়ে বা ফুলে উঠতে পারে স্তন। স্তনে গরম অনুভূত হওয়া, বগলের নিচে ব্যথা, চামড়ায় পরিবর্তন, ক্যানসার বড় হয়েছে, ১০টির বেশি গ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়ছে, ৫ সেন্টিমিটার বড় টিউমার বা যে কোনো আকার আকৃতির ক্যানসার থাকতে পারে। বুকের পেশি ও আশপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ৫ বছর পর্যন্ত বাঁচার হার শতকরা বাহাত্তর ভাগ।
ধাপ পঞ্চম : ক্যানসার লসিকা গ্রন্থি ও রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে, মেটাস্টাসিস চামড়া, হাড়, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও রক্তে ছড়িয়ে পড়ছে। ৫ বছর পর্যন্ত বাঁচার হার শতকরা বিশভাগ। তাই আক্রান্ত হলে অভিজ্ঞ টিউমার ক্যানসার বিশেষজ্ঞের তত্ত্ব¡াবধানে চিকিৎসা নিন।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.