
গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর ও গর্ভের শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। আর এই খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল রাখতে পারেন হবু মায়েরা। তবে সব ফল একই পরিমাণে খাওয়া উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে ফল বাছাই ও পরিমাণের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
গর্ভাবস্থায় ফল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে পুষ্টির চাহিদা বেড়ে যায়। শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের পাশাপাশি মায়ের শরীরেও নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় ফল রাখলে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও পানি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মৌসুমি ফল সাধারণত সহজলভ্য এবং বৈচিত্র্যময় হওয়ায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এগুলো যুক্ত করা যেতে পারে। তবে ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি।
পানিশূন্যতা কমাতে সহায়ক তরমুজ-বাঙ্গি
গরমের সময়ে শরীরে পানির ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তরমুজ ও বাঙ্গির মতো ফলে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এগুলো শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু ফলের ওপর নির্ভর না করে গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
আপেল, পেয়ারা ও কিউইতে মিলবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি
আপেল ফাইবারের ভালো উৎস। পাশাপাশি এতে আয়রনও রয়েছে। অন্যদিকে পেয়ারা, কিউই, পীচ, প্লাম ও লেবুজাতীয় ফলে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। ভিটামিন সি শরীরে আয়রন শোষণে সহায়তা করে। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল রাখা উপকারী হতে পারে।
পায়ের পেশিতে টান হলে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন কলা
গর্ভাবস্থায় পায়ের পেশিতে টান বা ক্র্যাম্প অনেকেরই হয়ে থাকে। এ সময় খাদ্যতালিকায় কলা রাখা যেতে পারে। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। এদিকে আমে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি। আর অ্যাভোকাডোতে ফাইবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পাওয়া যায়। ফলে সুষম খাদ্যতালিকায় এসব ফলও জায়গা করে নিতে পারে।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে মিষ্টি ফল খাওয়ায় সতর্কতা
ফল স্বাস্থ্যকর হলেও এতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। তাই গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীদের ক্ষেত্রে ফলের ধরন ও পরিমাণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আম, কলা, আঙুর, সফেদা ও তরমুজের মতো ফল খাওয়ার পরিমাণ বেশি হলে রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই এ ধরনের ফল কতটা এবং কখন খাওয়া যাবে, সে বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে হতে পারে। খাবারের পর অল্প সময় হাঁটাহাঁটিও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
দিনে কতবার ফল খাওয়া যেতে পারে?
গর্ভাবস্থায় সাধারণভাবে দিনে কয়েকবার পরিমিত পরিমাণে ফল খাওয়া যেতে পারে। তবে সবার জন্য একই পরিমাণ উপযুক্ত নয়। মায়ের ওজন, শারীরিক অবস্থা, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনা করে ফলের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। ফল খাওয়ার পাশাপাশি শাকসবজি, ডাল, শস্য, প্রোটিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাবারের সমন্বয়ে সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
পেঁপে ও আনারস নিয়ে এত ভয় কেন?
গর্ভাবস্থায় পেঁপে ও আনারস খাওয়া নিয়ে সমাজে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণা রয়েছে। গর্ভপাতের আশঙ্কায় অনেক হবু মা এসব ফল পুরোপুরি বাদ দেন। তবে গর্ভাবস্থায় কোনো খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ধরে নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর না করে নিজের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।
গর্ভাবস্থায় ফল হতে পারে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে‘উপকারী’ মানেই ইচ্ছেমতো খাওয়া যাবে এমন নয়। ফলের ধরন, পরিমাণ এবং মায়ের শারীরিক অবস্থা তিনটিই বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, আয়রনের ঘাটতি বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে নিজের মতো করে খাদ্যতালিকা পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.