তারেক রহমান বলেন,‘দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণকে জানায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। এমনকি জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করেনি। জনগণ না জানিয়ে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত কি না, সেই বিতর্ক তুলতে চাই না। তবে স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ মনে করে, করিডর দেওয়া না-দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে জনগণের কাছ থেকে, সিদ্ধান্ত আসতে হবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক বিশ্বের দেশে দেশে এটাই রীতি।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশিদের স্বার্থ নয়, সবার আগে সরকারকে দেশের মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। মায়ানমার, ভারত বা অন্য দেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। এটি হতে হবে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। বৈষম্যহীন নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা।’
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সবাইকে ভালো রাখার জন্যই বিএনপির রাজনীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক দর্শন হলো জনগণের কল্যাণে কাজ করা। বিএনপি সরকার প্রতিবারই মানুষের অধিকারের প্রতি সম্মান রেখে জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে। এ কারণে কখনোই বিএনপির নেতাকর্মীদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়নি।’
দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত দেড় দশকে স্বাধীন বাংলাদেশকে পরাধীনতার শিকলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। দুর্নীতি দুঃশাসন চালিয়ে পলাতক স্বৈরাচার জনগণকে স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, জনগণকে করেছিল ক্ষমতাহীন। ৫ আগস্ট হাজারো শহিদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতন হলেও জনগণের রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক অধিকার এখনো পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ জন্য শ্রমজীবী কর্মজীবী মানুষ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে নিজেদের দুঃখ দুর্দশার কথাগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।’
সরকারকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ সংস্কার ও নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে বিভেদ উসকে দিতে চায়। জনগণের মনে এমন সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করুন। প্রয়োজনীয় সংস্কার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনে প্রস্তুত করুন। সুনির্দিষ্টভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। অন্তবর্তী সরকারের পথনকশা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরুন। তাহলে জনগণের সন্দেহ-সংশয় কেটে যাবে। জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন নির্বাচন।’

