সত্য সমাচার ডিজিটাল:
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা: জোবায়দা রহমান আজ বুধবার বলেছেন, আমরা সবাইকে সমান সুযোগ ও মর্যাদা দিতে চাই। আমরা বলতে চাই শোষণের আগে অধিকার। আপনাদের যদি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে আপনাদের প্রাপ্তি আপনারা পেয়ে যাবেন। আমরা বলতে চাই নেতার আগে জনতা। জনতা বাঁচলে দেশ বাঁচবে।
হতিরঝিল এমপিথিয়েটারে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক্তার জোবাইদা রহমান বলেন আপনাদের সমস্যা হৃদয়বিদারক। কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। আপনাদের এই হৃদয়বিদারক সমস্যা গুলোর সমাধানও সম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনার। আমরা বলি আমার আগে আমরা। তার আগে দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। দেশ বাঁচলে আমরা বাঁচবো। সুতরাং সকলের আগে প্রয়োজন দেশকে বাঁচানো।
সম্মিলিত পেশাজীবীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে তিনি ঢাকা ১৭ আসনের তিনটি বস্তি এলাকা কড়াইল, ভাষানটেক এবং সাততলা, পরিবহন শ্রমিক এবং গার্মেন্টস শ্রমিক প্রতিনিধিদের সথে তিনি মতবিনিময় করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পেশাজীবি গ্রুপের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান, সভাপতিত্ব করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হালিম ডোনার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।
ডা: জোবায়দা রহমান বলেন, আপনাদের সমস্যাগুলো আরো ভালো করে জানব। সমাধানের আগে জানা প্রয়োজন এবং আমরা সমতার ভিত্তিতে সকল সমস্যার সমাধান করতে চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন যারা বস্তির সমস্যা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন, এর সাথে পরিবহন ও গার্মেন্টস সেক্টরের সমস্যা সামনে এনেছেন তাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই, আগামী পরশু আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রচারিত হচ্ছে সেদিন আপনারা জানবেন আপনারা যে দাবি জানিয়েছেন তার চেয়েও বেশি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
আপনারা এদেশের মানুষ। তারেক রহমান কড়াইল বস্তি এবং ভাষানটেক বস্তিতে অনুষ্ঠান করেছেন। তিনি আপনাদের ডেকে আপনাদের সমস্যা গুলোর কথা জানতে চেয়েছেন। তিনি জানেন সমস্যাগুলোর সমাধান কিভাবে করতে হবে, তার সেই প্লান আছে।
সৌভাগ্য হলো আপনারা এমন এক ব্যক্তিকে আপনারা ভোট দিচ্ছেন যিনি শুধু এমপি নন, মন্ত্রী নন, সরাসরি প্রধানমন্ত্রী হবেন। আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধানের সহজভাবেই হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই শ্রমিকদের মজুরি হবে জীবনযাত্রার ব্যায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আবাসন নিরাপত্তা এবং যাতায়াতের নিরাপত্তা। তারেক রহমান আপনাদের কথা দিয়েছেন তিনি নির্বাচিত হলে আপনাদের আবাসন সংকট সমাধান করবেন। এমনকি ভবন দেয়ার আগে ফ্ল্যাট বরাদ্দের কাগজ পেয়ে যাবেন। তাহলে আপনারা বুঝবেন আপনারা ফ্ল্যাটের মালিক হচ্ছেন এবং অত্র এলাকার স্থায়ী বাসিন্দ হয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মাদকের ব্যবহার, নারীর নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ পানি ও গ্যাসের সমস্যাসহ যে সমস্যাগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলোর কথা আমাদের নেতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানেন এবং দায়িত্ব পাবার পরপরই তিনি এগুলো সমাধানে পদক্ষেপ নিবেন।
ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজন সবাইকে আলোড়িত করেছে। বস্তিবাসীর লোকজন যারা অনুষ্ঠানে এসেছেন তারা অঙ্গীকার করেছেন তারা সবাই ধানের শীষে ভোট দিবেন।
সুবিধা বঞ্চিত প্রান্তিক বস্তিবাসীদের পক্ষে কথা বলেন সাততলা বস্তির নার্গিস আক্তার, কড়াইল বস্তির তানিয়া আক্তার, ভাষান টেকের ফাতেমা আক্তার বিথি, পরিবহন শ্রমিকদের প্রতিনিধি মির্জা আল শামীম, গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতিনিধি ফাতেমা খাতুন।
প্রধান অতিথি ডাক্তার জুবাইদা রহমান প্রত্যেকের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তার বক্তব্যে তিনি সকল সমস্যার আন্তরিকভাবে সমাধান করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে এসে তিনি সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর গার্মেন্টস কর্মী বস্তিবাসী সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তিনি অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করেন। তার আগমনে বস্তিবাসীরা উল্লাসিত হয়। তারা তাকে মুহুর্মুহু স্লোগান দিয়ে সাধুবাদ জানায়।

