শোনো—
রূপের হাটে কত কোলাহল,
কিন্তু সওদাগর নীরব।
আঠারো হাজার সৃষ্টির পর্দা—
অগ্নিমুখী নক্ষত্র,
নীল গোপন কথা বলা সমুদ্র,
প্রার্থনার মতো উড়ে যাওয়া ধূলিকণা,
আর মানুষের কাঁপা হৃদয়—
সবই এক অদৃশ্য শিখার
জ্বালানো প্রদীপ।
একমাত্র তিনিই জীবিত।
বাকী সব ধার করা শ্বাস।
দেহ চলে পৃথিবীর বুকে
মাটির পেয়ালার মতো,
সময়ের কাদামাটি দিয়ে গড়া।
সে বলে “আমি”, “আমার”,
ধুলোর প্রাসাদ তোলে,
আকাশ মাপে ভঙ্গুর বুদ্ধিতে—
তবু প্রতিটি পেয়ালার অন্তরে
ঢালা আছে এক গুপ্ত মদ।
সেই মদই আত্মা।
আর আত্মা আমাদের নয়।
সে প্রিয়তমের নিঃশ্বাস,
অস্ত না-যাওয়া সূর্যের স্ফুলিঙ্গ।
আমরা তাকে বলি “রূহ”, “প্রাণ”,
কিন্তু সে তো এক জানালা—
যার ফাঁক দিয়ে
একমাত্র সত্তা
নিজেকেই দর্শন করেন।
হে বিস্ময়!
চিত্রকর লুকিয়ে আছেন ছবির ভেতর,
মহাসমুদ্র নিজেকে ভেঙে
হাজারো ঢেউ করেছে—
প্রতিটি ঢেউ চিৎকার করে,
“আমি আলাদা! আমি একা!”
কী মধুর বিদ্রূপ—
ঢেউ সমুদ্র খোঁজে,
যার বুক থেকেই তার জন্ম।
দেহ কিছুই নিজের নয়।
দেহ নিজেই অধিকৃত।
মন ভাবে সে বোঝে,
কিন্তু সে তো কেবল আয়না—
সত্যের প্রতিবিম্ব ঘষে ঘষে উজ্জ্বল করে।
বুদ্ধি রহস্যের দরজায় নতজানু,
শুধু দেখার অনুমতি তার—
ধরার নয়
আল-হাই, চিরজীবিতের মাহাত্ম্য।
আমরা আলোর নাট্যমঞ্চে দর্শক।
অভিনেতা, মঞ্চ, সংলাপ—
সবই তিনি।
তিনি দেখেন আমাদের চোখ দিয়ে,
শোনেন আমাদের নীরবতায়,
শ্বাস নেন আমাদের শ্বাসে।
যখন দেহ ঝরে পড়ে শরতের পাতার মতো,
কী থাকে?
না নাম, না আকৃতি—
থাকে কেবল তিনি,
যিনি চিরকালই জীবিত।
আঠারো হাজার রূপ
লবণের মতো জলে মিশে যায়—
আর জল তো একই ছিল চিরকাল।
তাই ভেঙে যাও, হে মায়ার পেয়ালা।
সাগরে ঢেলে দাও নিজেকে।
ধার করা সত্তা হারিয়ে
খুঁজে নাও একমাত্র জীবন—
কারণ অস্তিত্বে নেই আর কিছুই,
সব মুখের আড়ালে
শুধু তাঁরই মুখ।
————————-
SYED L. ALI BAHRAM
FREELANCE JOURNALIST
Former member: Bangladesh Civil Service
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.