“ঈশ্বর আমার প্রতি সদয় হননি”
(একটি শোকাকুল আত্মার জন্য)
⸻
০৬ আগস্ট ২০২৫
তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন সেখানে—
যেখানে নীরবতা নিজেরই কান্না শুনে ভেঙে পড়ে,
চোখে কাঁচের মতো ছায়া,
নিঃশ্বাসে এক অনির্বচনীয় অস্থিরতা।
একজন মানুষ—
যিনি একদিন ভালোবাসতেন, হাসতেন,
একটি ঘরে ফিরতেন,
যেখানে ছোট পায়ের শব্দ আর নির্ভর একজোড়া চোখ অপেক্ষা করত।
কিন্তু এখন—
তার পথ শুধুই স্মৃতির টুকরো দিয়ে বিছানো,
বছরগুলো ভাঁজ হয়ে গেছে দুঃখের ভিতরে,
সময় এগিয়েছে, কিন্তু সে থেমে গেছে এক ব্যথার বাঁকে।
তার হৃদয়—
একটি ঘড়ি, যার টিকটিক শব্দ আর শোনা যায় না,
প্রতিটি কান্না যেন এক নির্বাক পৃথিবীতে ঝরে পড়ে।
তিনি একদিন ছিলেন—
একজন বাবা, একজন স্বামী,
একটি জীবনের কেন্দ্রবিন্দু—
এখন শুধুই কিছু বিবর্ণ ছবি জানে
তার শূন্য বাহু কতটা কিছু আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিল।
আমি তাকে খুঁজে পেয়েছিলাম সীমান্তরেখার ধারে—
যেখানে কর্তব্য ব্যর্থভাবে দিনের ছেঁড়া প্রান্ত সেলাই করতে চায়।
আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম সাবধানে—
“কেমন আছেন আপনি, যখন ভাগ্য আপনাকে পোড়া ছাই ছাড়া কিছুই রাখেনি?”
তিনি চাইলেন আমার দিকে,
তার চোখে শোকের এমন এক স্তব্ধতা,
যা ভাষাকে নিরর্থক করে তোলে।
তারপর কেবল ফিসফিসিয়ে বললেন—
একটা অভিযোগ নয়, বরং এক নগ্ন সত্য:
“তুমি জানতে চাও আমি বিশ্বাস করি কিনা?
আমি শুধু বলতে পারি— ঈশ্বর আমার প্রতি সদয় হননি।”
এই কথা—
কোন প্রার্থনা, কোন যুক্তি, কোন ধর্মতত্ত্ব তাকে ঘিরে রাখতে পারে না।
কিছু বেদনা এত বিশাল,
যা ভাষা বা সান্ত্বনার আঙুল ছুঁতে পারে না।
কিছু ক্ষতি এত গভীর,
যেখানে এমনকি ঈশ্বরও দূরে মনে হয়—
আর করুণা যেন পর্দার আড়ালে পালিয়ে যায়।
তবুও, তিনি দাঁড়িয়ে আছেন—
বাঁকানো, ভেঙে-পড়া, তবু অটল—
এক জীবন্ত স্মারক,
যে প্রমাণ দেয়:
বিশ্বাস হারালেও বেঁচে থাকা থামে না।
তাকে তার শব্দ দিয়ে বিচার কোরো না,
আর যেটি আর গড়া যায় না, তা গড়ার চেষ্টা কোরো না।
কারণ কিছু হৃদয়—
তাদের ক্ষত নিয়েই জেগে থাকে,
আর কিছু জীবন—
শুধু বেঁচে থাকা নয়, প্রতিদিন এক যুদ্ধ।
⸻
সৈয়দ আল আলী বাহরাম
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক,
প্রাক্তন সদস্য: বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস।
(সমর্পিত— তাদের জন্য, যারা হারিয়ে ফেলেছেন সব, তবু হেঁটে চলেন নীরব শক্তিতে।)
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.