আসাদুজ্জামান বাবুল :
বাংলাদেশের বিখ্যাত হাউজিং প্রতিষ্টান, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগে তদন্ত চলছ এবং বিশেষ করে শেখ হাসিনার ভাগনী শেখ রেহানার মেয়ে, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে তাদের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে ফ্লাট নেওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলছে।
হাউজিং ব্যবসার নামে সাধারন মানুষের ভিটামাটিসহ সরকারি খাসজমি দখল করে প্লট বানিয়ে অবৈধভাবে বিক্রয় করে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সরকার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে ‘ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড’র চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান শুরু।
সংস্থাটির অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৬ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের একসভায় তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন।
মঞ্জুরুল ইসলাম একাধারে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড এর পাশাপাশি, বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লেক্স, নাভানা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল, সুরমা লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ (পিএলসি) এবং আফতাব বহুমুখী ফার্ম লিমিটেড, এর পরিচালক।
ইস্টার্ণ হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম এবং তার প্রতিষ্ঠান একটি আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে ১২ দশমিক ১২ একর সরকারি সম্পত্তি আত্মসাত করেছেন। যার আনুমানিক মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া রয়েছে নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং গত কয়েক দশকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রমতে, আদালত কর্তৃক মৃত্যুন্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার ভাগ্নি, শেখ রেহানার মেয়ে, বৃটিশ নাগরিক টিউলিপ সিদ্দিককে রাজধানীর গুলশান-২ এর ৭১ নম্বর রোডে মঞ্জুরুল ইসলামের মালিকানাধীন ‘ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড এর একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ঘুষ প্রদানের অভিযোগে অনুসন্ধানের বিষয় গ্রহণ করেছে দুদক। ঘুষ গ্রহণের ঘটনায় ইতিমধ্যে টিউলিপ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে সংস্থাটি। ঐ মামলায় রাজউকের তৎকালিন আইন উপদেষ্টা মো: সেলিম, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ইন্তেকাল করায় তাদের আসামি করা হয়নি। এ প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে এবার ঘুষ প্রদানের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে জহিরুল ইসলামের পুত্র ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড এর বর্তমান চেয়ারম্যান, প্রতিষ্ঠানটির তৎকালিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ধীরাজ মালাকারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
এই স্বনামধন্য হাউজিং প্রতিষ্ঠানটি সরকারি প্রায় ২০০ বিঘা খাস জমি দখল করে প্লট বানিয়ে বিক্রির করার অভিযোগ রয়েছে। যেখানে ওয়াসা, ডেসকো, পিডাব্লিউডি,র মতো সরকারি প্রতিষ্টানের জমি রয়েছে বলেও অনুসন্ধানে জানাযায়।
ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম কে অন্ধকারে রেখে নতুন এমডি- ইন্জিনিয়ার আমিনুর রহমান সিদ্দিকী এবং মেম্বার প্লানিং মাজহারুল ইসলাম মিলে জমি দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম সাথে তার মুঠো ফোনে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, পাচার এবং টিউলিপকে ফ্ল্যাট ঘুষ দেয়ার অভিযোগের অনুসন্ধান সম্পর্কে জানাতে চাইলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: আক্তার হোসেন বলেন, কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে এবং অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য একটি টিম গঠন করা হয়েছে।
(পড়বো-১)
সম্পাদক:মো: আবু ফাত্তাহ
বেঙ্গল সেন্টার (৬ষ্ঠ তলা) ২৮ তোফখানা রোড ঢাকা-১০০০।
ফোন:০১৬১৮৫১১৫১৭ মেইল: sattyasamacher@gmail.com
Copyright © 2026 sattyasamacher.com. All rights reserved.