ইরানে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে এ হামলা শুরু হয়। দেশটি এটিকে ‘পূর্ব-নির্ধারিত আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম । এ ছাড়া ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা রিপোর্ট পেয়েছে যে ইরানের রাজধানীর রিপাবলিক এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
বিবিসি, টাইমস অব ইসরাইল ও জেরুজালেম পোস্টসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। দেশটির নাগরিকদের সুরক্ষিত এলাকার কাছাকাছি থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
আজ সকালে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইসরায়েলজুড়ে ‘বিশেষ এবং স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যাতে আমাদের রাষ্ট্রের ওপর ঝুঁকি দূর করা যায়।’
এদিকে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বাজতে শুরু করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী সাধারণ মানুষকে বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে থাকার জন্য সতর্ক করছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে’ সাধারণ মানুষ যেন নিজের নিকটবর্তী সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্র সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলে।
এর আগে গত ২২ জুন ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আমেরিকান যুদ্ধবিমান বোমা হামলা চালিয়েছিল। সেগুলো হলো- ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান। এর মধ্যে ফোর্দো, ইরানের দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকার ভেতর লুকানো একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমেরিকা ওই হামলা চালানোর আগে ১৩ জুন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।দেশটি তখন দাবি করেছিল, তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ইরান খুব শিগগিরই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সক্ষম হবে।
ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরানও তখন ইসরায়েলের দিকে শত শত রকেট ও ড্রোন ছুঁড়ে।
সম্প্রতি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানে হামলা করা হবে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুমকির মধ্যেই জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসেছিলেন মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমেরিকা এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প যাকে ‘আর্মাডা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং জ্বালানি বহনকারী বিমান রয়েছে।
গত মাসে প্রথমবারের মতো ইরানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নির্মমভাবে দমন করার সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ওই হুমকি দেন তিনি।

